আইপিএস অফিসারের আত্মহত্যায় নতুন মোড়! এবার মৃত পুরণ কুমারের স্ত্রীর বিরুদ্ধে FIR, কে ফাঁসালো গোপন তথ্য?

হরিয়ানার অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইনস্পেক্টর (এএসআই) সন্দীপ কুমারের আত্মহত্যার ঘটনায় এবার তদন্তে নয়া মোড় এসেছে। এই ঘটনায় রোহতক সদর থানায় চারজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে আত্মঘাতী আইপিএস অফিসার ওয়াই পুরন কুমারের স্ত্রী অনমিত পি কুমারের নামও রয়েছে।
গত মঙ্গলবার রোহতকের এক মাঠে নিজের সার্ভিস রিভলভার থেকে গুলি করে আত্মঘাতী হন এএসআই সন্দীপ কুমার। তিনি রোহতকের সাইবার সেলে নিযুক্ত ছিলেন এবং আইপিএস অফিসার ওয়াই পুরণ কুমারের বিরুদ্ধে একটি দুর্নীতি মামলার তদন্ত করছিলেন।
গত ৭ অক্টোবর আইপিএস অফিসার ওয়াই পুরণ কুমার মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে অভিযোগ। মৃত্যুর আগে লেখা সুইসাইড নোটে তিনি মানসিক নির্যাতন এবং বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছিলেন। এই ঘটনায় রাজ্য বিজেপি সরকার তীব্র চাপের মুখে পড়ে।
অন্যদিকে, এএসআই সন্দীপ কুমার তাঁর আত্মহত্যার আগে একটি ভিডিও এবং তিন পৃষ্ঠার নোট রেখে গেছেন। তাতে তিনি অভিযোগ করেছেন যে ওয়াই পুরণ কুমার ছিলেন ‘দুর্নীতিগ্রস্ত অফিসার’ এবং নিজের কথিত দুর্নীতি ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়েই আত্মহত্যা করেছিলেন। সন্দীপ কুমার আরও অভিযোগ করেন যে ওই আইপিএস অফিসার জাতিগত বৈষম্যের বিষয়টিকে ব্যবহার করে গোটা ব্যবস্থাকে নিজের পক্ষে ঘুরিয়ে নিয়েছিলেন।
নতুন করে দায়ের হওয়া এফআইআর-এ অনমিত পি কুমার (মৃত আইপিএস-এর স্ত্রী)-এর পাশাপাশি নাম রয়েছে পুরণ কুমারের রক্ষী সুশীল, ভাটিন্ডা গ্রামীণ বিধানসভার বিধায়ক অমিত রত্ন এবং আরও একজনের। তদন্ত চলায় এফআইআর-এ কী অভিযোগ করা হয়েছে তা জানাতে অস্বীকার করেছেন আধিকারিকরা। তবে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, এই এফআইআর সম্পূর্ণ ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দেবে। কে এই এফআইআর দায়ের করেছেন, সেই তথ্যও গোপন রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ টানাপড়েনের পর গত বুধবার আইপিএস অফিসার ওয়াই পুরণ কুমারের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। পরিবারের দাবি ছিল, অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারদের গ্রেফতার করা হোক এবং তদন্ত নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হোক। এর মধ্যেই অপর এক পুলিশ সদস্য আত্মহত্যা করে ওয়াই পুরণ কুমারের বিরুদ্ধেই পাল্টা অভিযোগ তোলায় পুরো ঘটনা আরও জটিল আকার নিল।