‘আমাকে ভাই বলুন!’ – বুথ কর্মীকে থামালেন মোদী, বিহারে ভাইফোঁটাকে করলেন ভোটের হাতিয়ার

‘মান্যবর প্রধানমন্ত্রী জি…’– বাক্যটি শেষ করার আগেই বিহার বিজেপির এক বুথ স্তরের মহিলা কর্মীকে থামিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বুধবার বিহারের বুথ কর্মীদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে ওই মহিলা প্রধানমন্ত্রীকে ‘প্রধানমন্ত্রী জি’ বলে সম্বোধন করলে, মোদী সহাস্যে তাঁকে শুধরে দেন। বলেন, “আমাকে ভাই বলে সম্বোধন করুন। সামনেই তো ভাইফোঁটা।” প্রধানমন্ত্রীর এই অপ্রত্যাশিত কথায় মুহূর্তেই আবেগঘন হয়ে ওঠে গোটা বৈঠক।

আসন্ন বিহার বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বুধবার দিল্লি থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে কয়েক হাজার বিজেপি বুথ কর্মীর সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি মনোযোগ দিয়ে নির্বাচিত কর্মীদের কথা শোনেন এবং পরে জবাব দেন।

ভাইফোঁটা হবে নির্বাচনী কৌশল:

প্রধানমন্ত্রী এই বৈঠকেই বিহারের নেতাদের উদ্দেশ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, এবারের ভাইফোঁটা (যা ২৩ অক্টোবর পালিত হবে) যেন সব বুথ স্তরে আয়োজন করা হয়। সেখানে দলের মহিলা কর্মীদের এবং রাজ্যের বোনেদের বিশেষ সম্মান জানানোর ব্যবস্থা করতে হবে। এই ‘ভাই দুজ’ উৎসবকে কাজে লাগিয়ে মহিলা ভোটারদের কাছে পৌঁছানো এবং তাঁদের সঙ্গে ‘ভাই-বোনের’ সম্পর্ককে মজবুত করার উপর জোর দেন তিনি।

NDA-ই শেষ কথা, বুথকে বানান দুর্গ:

আসন্ন বিধানসভা ভোটে লড়াইয়ের কৌশল হিসেবে মোদী আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিশা দেন। তাঁর স্পষ্ট বার্তা— শুধু বিজেপি প্রার্থীর জয় নয়, প্রতিটি বুথকে NDA-এর দুর্গ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। লড়াই এনডিএ বনাম বিরোধীদের। তাই প্রত্যেক বিজেপি কর্মীর দায়িত্ব এনডিএ জোট প্রার্থীর জয় নিশ্চিত করা। এই লক্ষ্যে বুথ স্তরে বোঝাপড়া আরও নিবিড় করার উপর তিনি জোর দিয়েছেন।

নারীশক্তিই মোদীর ‘ব্রহ্মাস্ত্র’:

ভোটারদের কাছে পৌঁছনোর জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিগুলির প্রচারের উপর বিশেষ জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। এই প্রসঙ্গে তিনি দুটি মূল প্রকল্পের উল্লেখ করেন, যা নারীশক্তিকে কাজে লাগানোর লক্ষ্য রাখে:

১. ‘ড্রোন দিদি’: এই প্রকল্পে কৃষক পরিবারের স্বল্প-শিক্ষিত মহিলাদের সরকারি খরচে ড্রোন দেওয়া হবে, যাতে তাঁরা চাষের খেতে নজরদারি চালাতে পারেন। ২. ‘লাখপতি দিদি’: এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা যেন বছরে ন্যূনতম এক লক্ষ টাকা উপার্জন করতে পারেন।

‘জঙ্গলরাজ’ ও বামপন্থার বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা:

ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বিহারে লালু প্রসাদ ও রাবড়ি দেবীর আমলের ‘জঙ্গলরাজ’-এর প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি সমস্ত বিহারবাসীকে সতর্ক থাকতে বলেন, যাতে সেই ‘জঙ্গলরাজ’ আর ফিরে না আসে। পাশাপাশি তিনি মাওবাদীসহ উগ্র বাম রাজনৈতিক দলগুলির কার্যকলাপের ব্যাপারেও যুব সমাজকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। এই শক্তিগুলি যাতে নির্বাচনে কোনোভাবেই মাথা তুলতে না পারে, সে ব্যাপারে বিজেপি কর্মীদের সজাগ থাকতে বলেছেন নরেন্দ্র মোদী।

(উল্লেখ্য, বিহারে আগামী মাসের ৬ এবং ১১ তারিখ দু দফায় বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে। ফল প্রকাশ ১৪ অক্টোবর। মোদী বলেন, ফল প্রকাশের পর নতুন করে দীপাবলি পালন করা হবে।)