TMCP-তে বড় রদবদল: বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা সাব্বির আলিকে দক্ষিণ কলকাতা জেলার সভাপতি করল দল

তৃণমূল ছাত্র পরিষদ (TMCP)-এর জেলা সভাপতি পদে একাধিক নতুন মুখ ঘোষণা করেছে দল, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও কোথাও পুরনো নেতৃত্ব বহাল রয়েছে, আবার কোথাও বা এসেছে পরিবর্তন। তবে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে দক্ষিণ কলকাতার নতুন সভাপতি হিসেবে বিতর্কিত ছাত্রনেতা সাব্বির আলির নাম ঘোষণা। যোগেশচন্দ্র চৌধুরী কলেজের এই যুবনেতা একাধিকবার বিতর্কের কেন্দ্রে থাকলেও, এবার দল তাঁর উপরেই আস্থা রেখেছে।
সরস্বতী পুজো বিতর্কে শিরোনামে সাব্বির
চলতি বছর সরস্বতী পুজো ঘিরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরই প্রাক্তন কলেজ, যোগেশচন্দ্র ল’ কলেজে তুমুল চাঞ্চল্য ছড়ায়। অভিযোগ উঠেছিল, সাব্বির আলি পুজো করার বিরোধিতা করে এক ছাত্রকে ধর্ষণ ও খুনের হুমকি দিয়েছিলেন। এই ঘটনায় চারু মার্কেট থানায় তাঁর বিরুদ্ধে FIR দায়ের হয়।
এছাড়াও, কলেজের অধ্যক্ষ পঙ্কজ রায় প্রকাশ্যে জানান, সাব্বিরের ভয়ে তিনি নিয়মিত কলেজে যেতেন না এবং একাধিকবার হেনস্থার শিকার হয়েছেন। এত বিতর্ক সত্ত্বেও দক্ষিণ কলকাতার TMCP সভাপতি পদে সাব্বিরের নাম ঘোষণায় বিস্মিত অনেকেই।
বিতর্কের জেরে বাদ পড়লেন সুন্দরবনের সভাপতি
অন্যদিকে বিতর্কের জেরেই ছিটকে গেলেন সুন্দরবন সাংগঠনিক জেলার সভাপতি দেবাশিস দাস। মাস কয়েক আগে কাকদ্বীপের ভোটার তালিকায় বাংলাদেশের নাগরিক নিউটন দাসের নাম উঠে আসায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছিল, ওই বাংলাদেশি নাগরিকের সঙ্গে দেবাশিসের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। এই বিতর্কের কারণেই দল (TMCP) এবার তাঁকে সরিয়ে দিয়েছে। তাঁর জায়গায় সুন্দরবনের নতুন সভাপতি হলেন প্রীতম হালদার।
দলের এই বিপরীতধর্মী সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। তৃণমূলের একাংশের মতে, ছাত্র সংগঠনের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, আর সাব্বিরের প্রভাব দক্ষিণ কলকাতার কলেজ মহলে প্রবল। সেই কারণেই দলের আস্থা তাঁর উপর। তবে বিরোধীরা কটাক্ষ করে বলেছেন, “তৃণমূলে এখন যোগ্যতার চেয়ে বিতর্কই বড় যোগ্যতা!” এই রদবদল TMCP-এর সাংগঠনিক রূপরেখা ও নীতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।