হাহাকার! কলকাতার নামি কলেজগুলিতে ৫০-৬০% স্নাতক আসন ফাঁকা, কেন মুখ ফেরাচ্ছে পড়ুয়ারা?

কলকাতা শহরের কলেজগুলিতে স্নাতক স্তরের (UG) আসন পূরণে এক প্রকার ‘হাহাকার’ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় অভিন্ন পোর্টালের মাধ্যমে দু’দফা কাউন্সেলিং শেষ হওয়ার পরেও একাধিক কলেজে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ আসন এখনও ফাঁকা। এই পরিস্থিতিতে ফাঁকা আসন পূরণের দায়িত্ব এবার সরাসরি উচ্চ শিক্ষা দফতরের হাতে তুলে দিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
এখন কেন্দ্রীয় পোর্টালের পর যে আসনগুলি খালি রয়েছে, সেগুলিতে ডিসেন্ট্রালাইজড (বিকেন্দ্রীভূত) প্রক্রিয়ায় ভর্তি নেওয়া হবে। ১২ অক্টোবর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে আশুতোষ কলেজ সহ শহরের একাধিক কলেজ নিজেদের ওয়েবসাইটে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।
আশুতোষ কলেজের অধ্যক্ষ মানষ কবি জানিয়েছেন, কলেজে মোট ৩৩৩০টি স্নাতক আসনের মধ্যে কেন্দ্রীয় পোর্টালের মাধ্যমে ভর্তি হয়েছে প্রায় ১৪০০ জন পড়ুয়া। তাঁর বক্তব্য, প্রথাগত সাধারণ ডিগ্রি কোর্সে আগ্রহ গত কয়েক বছর ধরে কমছে। এখন ছাত্র-ছাত্রীরা পেশাদার কোর্সের দিকে বেশি ঝুঁকছে, যার কারণে অনেক আসন খালি থাকছে। শুধুমাত্র আশুতোষ কলেজ নয়, শহরের প্রায় সব কলেজেই একই চিত্র।
রাজ্যজুড়ে অভিন্ন পোর্টাল গত জুন মাস থেকে চালু হয়। প্রথম দফায় ১৮ জুন থেকে নাম নথিভুক্তকরণ শুরু হয়। দুই ধাপের কাউন্সেলিং মিলিয়ে মোট ৪ লক্ষ ২১ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছিল, যা গত বছরের তুলনায় বেশ কম।
অন্যতম নামি সরকারি মহিলা কলেজ লেডি ব্রাবোর্ন। সরকারের নির্দেশ মেনে ১২ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে তারা নিজস্ব পোর্টালে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছেন, প্রথম ১০ ঘণ্টায় প্রায় ২০০টি আবেদন জমা পড়েছে। এই কলেজে মোট আসন সংখ্যা প্রায় ৬৩৫টি, যার মধ্যে এখনও পর্যন্ত ভর্তি হয়েছেন ৩০০ জন ছাত্রী। অর্থাৎ, প্রায় ৫০ শতাংশ আসন এখনও ফাঁকা।
শিক্ষকমহলের একাংশের দাবি, যে সমস্ত কোর্সে পড়াশোনা করে সহজে চাকরি পাওয়া যায়, যেমন ইংরেজি, মাইক্রোবায়োলজি, ভূগোল, বাণিজ্য, সেগুলিতে পড়ুয়াদের আগ্রহ বেশি। গত কয়েক বছরে বাংলা, ইতিহাস, অর্থনীতি বা পদার্থবিদ্যা, রসায়নের মতো বিষয়ে পড়ুয়ারা আগ্রহ হারাচ্ছে।