ফের সক্রিয় ইডি! বালি পাচার কাণ্ডে ঝাড়গ্রাম-আসানসোল-কলকাতায় ‘ম্যারাথন’ তল্লাশি, আতঙ্কে কারবারিরা

বালি পাচার সংক্রান্ত আর্থিক দুর্নীতির তদন্তে ফের তৎপর হল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ঝাড়গ্রাম, আসানসোল এবং কলকাতার একাধিক জায়গায় তল্লাশি অভিযান শুরু করেছেন ইডি আধিকারিকরা। তাঁদের সঙ্গে অভিযানে রয়েছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা।

ইডি সূত্রে খবর, কলকাতার বেন্টিঙ্ক স্ট্রিট এলাকার একটি অফিসেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এই অফিসটিও বালি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। অন্যদিকে, পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলে মনীশ বাগারিয়া নামে এক বালি ব্যবসায়ীর বাড়িতেও অভিযান চলছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বালি কারবারের সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত মাসে (সেপ্টেম্বর) একই বালি পাচার মামলার তদন্তে রাজ্যজুড়ে একাধিক অভিযান চালিয়েছিল ইডি। সেই সময় একাধিক ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা নগদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। মেদিনীপুরের বালি ব্যবসায়ী সৌরভ রায়ের বাড়ি থেকে প্রায় ৬৫ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেন তদন্তকারীরা। এছাড়াও, গোপীবল্লভপুরের অন্য এক ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছিল।

ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝাড়গ্রামে সৌরভ রায়ের একাধিক বালি খাদান রয়েছে এবং তিনি মূলত লালগড় থেকেই ব্যবসা পরিচালনা করেন। বৃহস্পতিবার তাঁর অফিসেই তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার এই ধারাবাহিক অভিযানকে বালি পাচার চক্রের মূল শিকড় উন্মোচন করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে, ভোটের আগে ইডি-সিবিআইয়ের এমন সক্রিয়তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অতীতেও তৃণমূল কংগ্রেস বারবার অভিযোগ তুলেছে যে কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ভোটের আগে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ধরনের পদক্ষেপের ফলে অনেক ক্ষেত্রে তদন্তকারী সংস্থার নিরপেক্ষতা নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয় বলে শাসক দলের দাবি।