সাইবার জালিয়াতির নতুন কৌশল: ইমেল ও ফোন কলের মাধ্যমে সিস্টেমকে প্রতারণা! কীভাবে তদন্ত করছে পুলিশ?

একটি গুরুতর সাইবার জালিয়াতির ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে এক সাইবার অপরাধী একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানির প্রতিনিধি সেজে ব্যাঙ্কের কর্মীদের কাছ থেকে ৩৮.২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। অভিযুক্ত ইমেল এবং ফোন কলের মাধ্যমে ব্যাঙ্ককে বিভ্রান্ত করে ওই বিপুল পরিমাণ অর্থ তার অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করিয়ে নেয়। ঘটনার পর ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ সাইবার ক্রাইম পোর্টালে অভিযোগ দায়ের করে এফআইআর করেছে। পুলিশ এখন ফান্ডের লেনদেন ট্র্যাক করে অভিযুক্তের খোঁজ করছে।

ইমেল ও কলের মাধ্যমে প্রতারণার ষড়যন্ত্র

দ্য হিন্দু-এর প্রতিবেদন অনুসারে, ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার সকাল ১১টা নাগাদ। ব্যাঙ্কের শাখায় একটি ফোন আসে। ফোনকারী নিজেকে রিয়েল এস্টেট ডেভেলপারের অথরাইজড প্রতিনিধি বলে পরিচয় দেয়। একই সঙ্গে একটি ইমেলের কথা উল্লেখ করে দ্রুত অর্থপ্রদানের জন্য চাপ দেওয়া হয়।

ইমেলটি ডেভেলপারের রেজিস্টার্ড অ্যাকাউন্ট থেকে এসেছে বলে মনে হওয়ায় ব্যাঙ্কের কর্মীরা কোনো সন্দেহ না করেই ৩৮.২ লাখ টাকা আরটিজিএস (RTGS) ট্রান্সফার করে দেন।

আসল প্রতিনিধির ফোন কলে ফাঁস হল প্রতারণা

পরের দিন যখন ডেভেলপারের আসল প্রতিনিধি ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তখন এই জালিয়াতির ঘটনাটি সামনে আসে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে তিনি এমন কোনো লেনদেন শুরু বা অনুমোদন করেননি। এরপর ব্যাঙ্ক ইমেলের হেডার পরীক্ষা করে জানতে পারে যে, ইমেলটি একটি স্পুফড (Spofed) অর্থাৎ নকল আইডি থেকে পাঠানো হয়েছিল, যা আসল আইডির মতো দেখতে করে তৈরি করা হয়েছিল।

সাইবার পুলিশের তদন্ত শুরু

ব্যাঙ্কের কর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টালে অভিযোগ নথিভুক্ত করেন এবং পূর্ব ডিভিশন সাইবার ক্রাইম পুলিশের কাছে মামলাটি হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ আইটি অ্যাক্ট এবং বিএনএস-এর বিভিন্ন ধারায় এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ এখন অভিযুক্ত পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য লেনদেনের বিবরণ খতিয়ে দেখছে। তদন্তে দেখা হচ্ছে যে, কীভাবে ভুয়ো ইমেল তৈরি করা হয়েছিল এবং এর পিছনে কোনো অভ্যন্তরীণ মদত ছিল কি না। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টটি রেরা (RERA) নিয়ম অনুসারে বিশেষ নজরদারিতে ছিল, কিন্তু প্রতারকরা সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে সিস্টেমকে ফাঁকি দিয়েছে।