জেএমএম, ভিআইপি-কে কত আসন দিল আরজেডি-কংগ্রেস? বিহারে ভোটের আগে মহাজোটের টানাপড়েন শেষে মাস্টারপ্ল্যান ফাঁস

বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আগে মহাজোটের অন্দরে আসন বন্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের টানাপড়েন অবশেষে মিটল। ২৪৩ আসনের এই রাজ্যে লালুপ্রসাদ যাদবের রাষ্ট্রীয় জনতা দল (RJD) লড়বে ১৩৫টি আসনে, আর কংগ্রেস লড়বে ৬১টি আসনে। বাকি আসনগুলিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বামফ্রন্ট এবং মুকেশ সহনির বিকাশশীল ইনসান পার্টি (VIP)।
সূত্রের খবর, বামফ্রন্টের তিন শরিক সিপিআই(এমএল), সিপিআই ও সিপিএম মোট ২৯ থেকে ৩১টি আসন পাচ্ছে, আর ভিআইপি-কে দেওয়া হচ্ছে ১৬টি আসন।
আসন রফার চেয়েও বড় সিদ্ধান্ত ছিল মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী নির্বাচন নিয়ে মতৈক্য। দীর্ঘ আলোচনার পর মহাজোটের সব শরিক দল অবশেষে তেজস্বী যাদবকে (Tejashwi Yadav) মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করতে সম্মত হয়েছে। জানা গেছে, মুখ্যমন্ত্রী পদে তেজস্বীকে সমর্থন করার বদলে কংগ্রেস নিজেদের প্রাথমিক দাবি ৭০টিরও বেশি আসন থেকে সংখ্যা কিছুটা কমিয়ে ৬১টি আসনে রাজি হয়েছে।
অন্যদিকে, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (JMM) এবং ইন্ডিয়া ইনক্লুসিভ পার্টি (IIP)-র যোগদানে তৈরি হওয়া নতুন জটিলতাও মিটেছে। ঝাড়খণ্ডে আরজেডি-কংগ্রেস সরকারের অংশীদার হওয়ায় JMM-কে একটি আসন দিচ্ছে আরজেডি এবং IIP-কে একটি আসন ছেড়ে দিচ্ছে কংগ্রেস (সহরসা আসন)। মুকেশ সহনির ভিআইপি দল প্রথমে ৫০টি আসন ও উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ দাবি করলেও তা শেষ পর্যন্ত গৃহীত হয়নি।
আসন রফা চূড়ান্ত হওয়ার পরই মহাজোটে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রেলের আরও একটি দুর্নীতি মামলায় সোমবার দিল্লির আদালত বিহারের প্রাক্তন দুই মুখ্যমন্ত্রী লালুপ্রসাদ যাদব, রাবড়ি দেবী এবং তাঁদের পুত্র তেজস্বী যাদব সহ একাধিক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জশিটে মান্যতা দিয়ে চার্জ গঠনের নির্দেশ দিয়েছে।
অভিযোগ, রেলের দু’টি হেরিটেজ হোটেল বেসরকারি হাতে দেওয়ার ক্ষেত্রে বিপুল টাকার নয় ছয় করা হয়েছিল। ভোটের মুখে লালু-পরিবারের বিরুদ্ধে আদালতের এই নির্দেশ মহাজোটকে যথেষ্ট চাপে ফেলবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এই ঘটনা বিজেপি সহ এনডিএ শরিকদের অবস্থানকে আরও মজবুত করল।