বন্যায় সর্বস্বান্ত উত্তরবঙ্গ, এবার গোদের উপর বিষফোঁড়া! শুয়োরের হামলায় মৃত ১, গণ্ডার তাণ্ডবে গ্রামজুড়ে আতঙ্ক

টানা বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসের জেরে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গে এবার গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো যুক্ত হলো বন্যপ্রাণীর আক্রমণ। জঙ্গল থেকে লোকালয়ে ব্ল্যাক প্যান্থার, চিতাবাঘ এবং গণ্ডার বেরিয়ে পড়ার আশঙ্কায় রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এর মাঝে বন্যপ্রাণীর হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন এক যুবক।

কোচবিহারের মাথাভাঙায় বন্যার জলে ভেসে আসা বন্য শুয়োরের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন পেশায় কৃষক বীরেন বর্মন। খবর অনুযায়ী, তোর্সা নদীর পাড়ে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

তোর্সার জলে ভেসে এল গণ্ডার, গ্রামে তাণ্ডব
জলদাপাড়া অভয়ারণ্য থেকে মাত্র ১.৫ কিমি দূরে, বিজনবাড়ি ও ব্যাঙ্কডুবি ফরেস্টের মাঝে অবস্থিত মেজবিল গ্রামে এখন গণ্ডার আতঙ্ক।

স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, একদিকে যখন বৃষ্টি ও বন্যায় গোটা এলাকা বিধ্বস্ত, তখন তাঁদের সমস্যা বাড়িয়েছে লোকালয়ে বন্যপ্রাণীর আনাগোনা। তোর্সার জলে তিন থেকে চারটি গণ্ডারকে ভেসে আসতে দেখেন স্থানীয়রা। গত দু’দিন ধরে গণ্ডাররা এলাকায় তাণ্ডব চালাচ্ছে। গতকাল রাত আটটা-সাড়ে আটটা নাগাদ বাজারের কাছে একটি গণ্ডারকে দেখতে পান এলাকার মানুষজন।

গণ্ডার দেখা মাত্রই চারিদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিজেদের বাঁচাতে সকলে দ্রুত বাড়ি ফিরে দরজা বন্ধ করে দেন, দোকানের শাটার নামিয়ে দেওয়া হয়।

বন দফতরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ
খবর পেয়ে বন দফতর ঘটনাস্থলে পৌঁছলে, তাঁদের ঘিরে স্থানীয়রা তীব্র বিক্ষোভ দেখান। বন দফতরের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে গাফিলতি এবং বন্যপ্রাণী নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে উদাসীনতার অভিযোগ ওঠে।

এই ঘটনার পর একটি দিন পেরিয়ে গেলেও সেই গণ্ডারকে এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। আজ সারাদিন ফালাকাটা থেকে কোচবিহার পর্যন্ত পথে হাতির সাহায্যে বন দফতর গণ্ডারের খোঁজে তল্লাশি চালালেও সাফল্য মেলেনি।

বন্যপ্রাণীর আতঙ্কে থমথমে গোটা এলাকা। এক স্থানীয় বাসিন্দা আতঙ্কে বলেন, “আমাদের বাড়িতে ছোট বাচ্চা রয়েছে। গতকাল তো ভয়ে সারারাত ঘুমই হয়নি। এখন তো অন্ধকার হয়ে গিয়েছে। আজ কী হবে জানি না।” ক্ষুব্ধ আরেক স্থানীয়ের দাবি, “জলের যন্ত্রণা তো রয়েইছে। এছাড়াও গণ্ডার, বাইসন, হাতি সবই বেরোচ্ছে।”

কমছে না মৃত্যুমিছিল, আবহাওয়ার পূর্বাভাস
উত্তরবঙ্গে মৃত্যুমিছিল যেন থামছেই না। এখনও পর্যন্ত বন্যা ও ধসের জেরে সরকারি হিসাবে ২৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে খবর। সংবাদসংস্থা IANS সূত্রে অবশ্য সংখ্যাটি আরও বেশি, ৩৬ বলে দাবি করা হচ্ছে। সদ্যই বিজনবাড়িতে রঙ্গিত নদীতে আরও একজনের দেহ পাওয়া গিয়েছে। NDRF সূত্রে খবর, দার্জিলিঙে ১৮ জন এবং জলপাইগুড়িতে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে, আবহাওয়া দফতরের তরফে আগামী দুইদিনও উত্তরবঙ্গের জন্য হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও কোথাও ভারী বৃষ্টির তেমন সতর্কতা নেই, তবে বজ্রবিদ্যুৎসহ মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করা হয়েছে।