টোটো করে গয়না ছিনতাইয়ের গল্প ফেঁদে পুলিশের জালে মহিলা! কোটি টাকার সোনার আসল রহস্য ফাঁস বহরমপুরে

মায়ের কোটি টাকারও বেশি মূল্যের পারিবারিক গয়না চুরির একটি নাটকীয় গল্প ফেঁদে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন বহরমপুর শহরের এক মহিলা। পুলিশের জেরায় কার্যত নাস্তানাবুদ হয়ে তিনি নিজেই স্বীকার করেন যে, সোনা ছিনতাইয়ের ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।
বহরমপুর শহরের গোরাবাজার এলাকার বাসিন্দা ওই মহিলার নাম গায়ত্রী বোস। গত ৩ অক্টোবর তিনি বহরমপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের সেই নাটকীয় গল্প
গায়ত্রী দেবীর অভিযোগে বলা হয়েছিল:
তিনি গোরাবাজারের নিমতলা এলাকায় পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের লকার থেকে প্রায় ৯৬০ গ্রাম সোনার গয়না (যার আনুমানিক বাজার দর প্রায় ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা) নিয়ে টোটো চেপে বাড়ির দিকে রওনা দেন।
আনুমানিক দুপুর ১২টা নাগাদ বহরমপুর জজ কোর্ট এলাকায় টোটো চালক ও দু’জন সহযাত্রী বলপূর্বক তাঁকে মাদকদ্রব্য দিয়ে বেহুঁশ করে এবং সোনার গয়না ছিনতাই করে পালিয়ে যায়।
যেমনভাবে ফাঁস হলো সত্য
এই অভিযোগ পেয়েই বহরমপুর থানার পুলিশ তদন্তে নামে। কিন্তু তদন্তে নেমে পুলিশের চক্ষু চড়কগাছ।
বহরমপুর শহরের একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেও মহিলার বর্ণনা অনুযায়ী ওই দিনের কোনও ঘটনার সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।
এরপর পুলিশ টোটো চালককে শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি স্পষ্ট জানান, ওইদিন গয়না চুরির কোনও ঘটনাই ঘটেনি।
অন্যদিকে, গায়ত্রী দেবী নিজেই নানা অছিলায় তদন্তে অসহযোগিতা করতে শুরু করেন।
শেষে পুলিশ তাঁর বাড়িতে গেলে গায়ত্রী দেবী থানায় আসেন এবং পুলিশের জেরার মুখে ভেঙে পড়েন। তিনি স্বীকার করেন, গয়না চুরির ঘটনাটি ছিল মিথ্যা।
কেন ফাঁদা হয়েছিল মিথ্যা গল্প?
পুলিশের কাছে গায়ত্রী দেবী জানান, এই ৯৬০ গ্রাম সোনার গয়না তাঁর মায়ের সম্পত্তি। তিনি গয়নার ভাগ তাঁর ভাই ও বোনকে দিতে চাননি, তাই গয়না করায়ত্ত করার জন্য পুলিশের কাছে মিথ্যা চুরির গল্প বলেছিলেন।
মুর্শিদাবাদের ডিসিপি সুশান্ত রাজবংশী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “এই ঘটনায় তদন্ত করে আমরা সব গয়না উদ্ধার করেছি। পরবর্তী পদক্ষেপ শুরু হয়েছে।” পুলিশ ইতিমধ্যে বাজেয়াপ্ত করা ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা মূল্যের গয়না উদ্ধার করেছে।