নিম্নচাপের কোপে লক্ষ্মীপুজোর লাভ মাটি! প্রবল বৃষ্টিতে পর্যটক শূন্য দিঘা, মাথায় হাত হোটেল মালিকদের

পুজোর মরশুমের শেষ দিকে লক্ষ্মীলাভের যে আশা দেখছিলেন দিঘা, তাজপুর, মন্দারমণি ও শঙ্করপুরের হোটেল ব্যবসায়ীরা, তাতে বাদ সাধল বঙ্গোপসাগরের গভীর নিম্নচাপ। পুজোর শুরুর দিনগুলিতে ভিড় কম থাকলেও, শেষের দিকে ধীরে ধীরে বুকিং বাড়ছিল। কিন্তু দশমীর রাত থেকে প্রবল বৃষ্টি আর ঝোড়ো হাওয়ায় ভ্রমণপিপাসুদের সমস্ত পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ায় হোটেল ব্যবসায়ীরা এখন বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

লক্ষ্মীলাভের আশায় বাধা বৃষ্টি
সাধারণত পুজোর মরশুমের শেষভাগ এবং রবিবার ছুটির দিন হওয়ায় দিঘার সৈকতগুলিতে পর্যটকদের চাপ সবচেয়ে বেশি থাকে। সেই আশাতেই হোটেল কর্তৃপক্ষ নতুন করে বুকিংয়ের জন্য প্রস্তুত ছিলেন। লক্ষ্মীপুজোর ঠিক আগে হোটেল বুকিংয়ের যে ইতিবাচক ধারা দেখা যাচ্ছিল, বৃষ্টি শুরু হতেই তাতে বড়সড় ধাক্কা লাগে।

বৃষ্টির কারণে ভিড় হু হু করে কমে যায়। যে সমস্ত পর্যটকরা ইতিমধ্যেই দিঘায় পৌঁছেছেন, তাঁরাও এখন সৈকতে নামার পরিবর্তে হোটেলের ঘরের ভেতরেই বন্দি হয়ে আছেন।

ক্ষতির মুখে স্থানীয় অর্থনীতি
দিঘা-শঙ্করপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুশান্ত পাত্র জানিয়েছেন, পর্যটক সংখ্যা কমে যাওয়ায় শুধু হোটেল ব্যবসাতেই নয়, স্থানীয় দোকান, রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য ব্যবসাতেও চরম মন্দা দেখা দিয়েছে।

তবে এই পরিস্থিতিতেও তাঁরা আশাবাদী। সুশান্ত পাত্র বলেন, “আমরা আশা করছি, আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটবে। আবার নতুন ছন্দে ফিরবে দিঘা। আমরা সর্বদাই বিপর্যয় মোকাবিলায় সবরকমের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সেরে ফেলেছি।”

আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দিঘা সহ সংলগ্ন সৈকতগুলিতে এই অর্থনৈতিক মন্দা বজায় থাকবে বলেই আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।