জলদাপাড়ায় কুনকি হাতির ভরসা! হলং নদীর উপর দিয়ে হাতির পিঠে চাপিয়ে পর্যটকদের ‘চমৎকার’ উদ্ধার,

রাতভর প্রবল বৃষ্টিতে উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় হাহাকার। নদীগুলি বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে, ধসে বন্ধ জাতীয় সড়ক। এই চরম বিপর্যয়ের মধ্যে জলপাইগুড়ির জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধারে এক অভূতপূর্ব নজির তৈরি হলো।
জলদাপাড়া বন্যপ্রাণী বিভাগ কর্তৃপক্ষ কুনকি হাতির সাহায্যে পর্যটকদের হলং নদী পার করালেন।
হাতির পিঠে চেপে নদী পার
মাদারিহাটের হলং নদীর উপর থাকা একমাত্র কাঠের সেতুটি রবিবার সকালে জলের তোড়ে ভেসে যায়। ফলে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের ভিতরে আটকে পড়েন বেশ কয়েকজন পর্যটক। নদীর উপর দিয়ে হেঁটে পার হওয়ার কোনও উপায় ছিল না।
মাদারিহাট ট্যুরিস্ট লজের অনুরোধে বন্যপ্রাণী বিভাগ কর্তৃপক্ষ কুনকি হাতিদের নামায়।
হাতির পিঠে পর্যটকদের চাপিয়ে, হলং নদীর জল ভেঙে তাঁদের নিরাপদে সুরক্ষিত স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয়।
পর্যটকদের ব্যাগপত্র ও জিনিসপত্রও হাতির পিঠে চাপিয়ে নিয়ে আসা হয়।
জলদপাড়া বন্যপ্রাণী বিভাগের বিভাগীয় বনাধিকারিক প্রবীণ কাশোয়ান জানিয়েছেন, “আটকে পড়া পর্যটকদের কুনকি হাতির সাহায্যে সুরক্ষিত স্থানে নিয়ে আসা হয়েছে। কোনও পর্যটকের যাতে সমস্যা না হয়, সেই দিকে নজর রাখা হচ্ছে।”
ভুটান থেকে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধার করল সেনা
অন্যদিকে, অবিরাম বৃষ্টির ফলে ভুটান থেকে নেমে আসা তোর্ষা নদীও ফুলে ফেঁপে উঠেছে, যার ফলে ভুটান-সহ উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
ভুটান সরকারের অনুরোধে সেবক রোড বেস ক্যাম্প থেকে ভারতীয় সেনা বাহিনীর দু’টি হেলিকপ্টার উদ্ধারকাজে নামে।
ভুটানের ফুন্টসলিং-এ তোর্ষা নদীতে আটকে পড়া শ্রমিকদের হেলিকপ্টারে উড়িয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। চারজনকে নদী থেকে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়।
ভারতীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ভুটানকে যে কোনও বিপদে সহযোগিতা করতে তারা প্রস্তুত।
পাহাড়ে মৃতের সংখ্যা ২০, ভেঙে পড়ল মিরিকের সেতু
প্রকৃতির তাণ্ডবলীলায় দার্জিলিং সহ পাহাড়ের পরিস্থিতি আরও সঙ্গীন। একাধিক জায়গায় ধসের কারণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০। মিরিকে একটি লোহার সেতু ভেঙে পড়েছে। ধসের কারণে বন্ধ রয়েছে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কও। সবমিলিয়ে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে জেলা প্রশাসন।