‘গান্ধীজির পথে আন্দোলন….’,জেল থেকেই লাদাখবাসীকে খোলা চিঠি সোনম ওয়াংচুকের

লাদাখকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা এবং সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে চলমান বিক্ষোভে চারজনের মৃত্যুর ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি তুললেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। বর্তমানে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে (NSA) যোধপুর সেন্ট্রাল জেলে বন্দি সোনম, লাদাখবাসীকে উদ্দেশ্য করে একটি খোলা চিঠি লিখে এই বার্তা দিয়েছেন।
চিঠিতে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যতদিন না এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্ত হবে, ততদিন তিনি জেলেই থাকতে প্রস্তুত।
খোলা চিঠিতে সোনম ওয়াংচুক নিহতদের পরিবারের প্রতি সম্পূর্ণ সমবেদনা জানিয়েছেন। আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়ে তিনি লেখেন:
“মৃতদের পরিবারের প্রতি সম্পূর্ণ সমবেদনা রইল। এই মৃত্যুর ঘটনার স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্ত হওয়া উচিৎ। সেই তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত আমি জেলেই থাকতে প্রস্তুত।”
লাদাখের সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর আবেদন, যেন শান্তি ও ঐক্য বজায় রাখা হয়। তিনি গান্ধীজির পথ অনুসরণ করে অহিংস এবং শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। একই সঙ্গে, লাদাখের স্বার্থে ‘অ্যাপেক্স বডি’ যে সিদ্ধান্ত নেবে, তিনি তা মেনে নেবেন বলেও জানিয়েছেন।
লাদাখে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদার দাবিতে সোনম ওয়াংচুক গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে অনশন শুরু করেছিলেন। এর মধ্যেই লাদাখের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা সরকারি দপ্তরে ভাঙচুর চালানো এবং পুলিশের জিপে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগের মুখোমুখি হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ পাল্টা লাঠিচার্জ শুরু করলে চারজন বিক্ষোভকারী প্রাণ হারান।
কেন্দ্রীয় সরকারের অভিযোগ
লাদাখের এই হিংসাত্মক পরিস্থিতির জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সোনম ওয়াংচুককেই কাঠগড়ায় তুলেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের একটি বিবৃতিতে জানানো হয়, ২৪ সেপ্টেম্বর সোনম তাঁর বক্তৃতায় বেশ কিছু উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর বক্তব্যে ‘আরব বসন্ত’ এবং নেপালের ‘জেন জ়ি আন্দোলনের’ মতো হিংসাত্মক আন্দোলনের প্রসঙ্গ উঠে এসেছিল, যার জেরেই বিক্ষোভ হিংসাত্মক রূপ নেয়।
বর্তমানে সোনম ওয়াংচুক জাতীয় নিরাপত্তা আইনে বন্দি। যদিও তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো সুপ্রিম কোর্টে মামলা করে তাঁর এই গ্রেফতারিকে সম্পূর্ণ বেআইনি বলে দাবি করেছেন।