১৭ ছাত্রীকে ‘আই লাভ ইউ’ মেসেজ! স্বঘোষিত গডম্যান স্বামী চৈতন্যানন্দ গ্রেপ্তার, এবার যা অভিযোগ উঠলো…

নিজেরই ১৭ জন ছাত্রীকে রাতবিরেতে অশ্লীল ও যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ মেসেজ পাঠানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন স্বঘোষিত গডম্যান স্বামী চৈতন্যানন্দ সরস্বতী। চমকপ্রদ এই ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এবার আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগও উঠেছে। দিল্লি পুলিশের দাবি, একাধিক ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতেন এই ‘বাবা’, এবং অভিযোগ দায়েরের পরই অ্যাকাউন্টগুলি থেকে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লক্ষ টাকা তুলে নেন তিনি।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, শ্রী সারদা ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ান ম্যানেজমেন্টের প্রধান, ৬২ বছর বয়সী স্বামী চৈতন্যানন্দ সরস্বতী ওরফে পার্থসারথি-র বিরুদ্ধে ৩২ জন ছাত্রী অভিযোগ জানিয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৭ জনের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই আশ্রম প্রধান প্রায়শই ছাত্রীদের হোয়াটসঅ্যাপে ‘আই লাভ ইউ’ মেসেজ এবং যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ অশ্লীল ভিডিও পাঠাতেন। ছাত্রীদের অভিযোগ, তিনি বিদেশ সফরে তাঁর সঙ্গী হওয়ার প্রস্তাব দিতেন এবং এক ছাত্রীর ইচ্ছের বিরুদ্ধে নাম পরিবর্তনের জন্য জোরাজুরি করেছিলেন। এছাড়াও, তিনি ছাত্রীদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার জন্যেও জোর করতেন এবং প্রকাশ্যে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করতেন।
ইনস্টিটিউটের আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের তরুণীরা পোস্ট গ্রাজুয়েটের জন্য ভর্তি হয়েছিলেন। ছাত্রীরা একাধিকবার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইনস্টিটিউটের মহিলা শিক্ষাকর্মীদের কাছে অভিযোগ জানালেও, তাঁরা উল্টো স্বামী চৈতন্যনন্দের দাবি মেনে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। অবশেষে ছাত্রীরা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন।
তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে যে, সরস্বতী দুটি ভিন্ন নামে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন এবং অ্যাকাউন্ট খোলার সময় ও লেনদেনের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন নথি জমা দিয়েছিলেন। অভিযোগ দায়েরের পর থেকেই তিনি নিজের আসল পরিচয় গোপন করে টাকার লেনদেন চালিয়ে যাচ্ছিলেন বলে দাবি পুলিশের।
প্রতারণা, জালিয়াতি ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মামলায় শুক্রবার অতিরিক্ত সেশন বিচারক হরদীপ কৌর স্বামী চৈতন্যানন্দ সরস্বতীর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেন।
শুনানির সময় বিচারক বলেন, “মামলার তদন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। অভিযুক্তের হেফাজত প্রয়োজন পুরো প্রতারণা, ষড়যন্ত্র ও অর্থ আত্মসাতের চক্র উন্মোচনের জন্য।” অভিযুক্ত বর্তমানে তাঁর দেওয়া ঠিকানায় অনুপস্থিত এবং মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় অভিযোগের গুরুত্ব ও অপরাধের গম্ভীরতা বিবেচনা করে আদালত আগাম জামিন দিতে অনিচ্ছুক বলে জানান তিনি।
দিল্লি পুলিশ এই স্বঘোষিত গডম্যানের বিরুদ্ধে পুরোদমে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।