ঘূর্ণাবর্তের জোড়া ফোঁটা! নবমী-দশমীতে কি পণ্ড হবে ঠাকুর দেখা? আবহাওয়া দফতর যা জানালো…

উৎসবের মরশুমের মাঝেই ফের সক্রিয় হচ্ছে নিম্নচাপ। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ, শুক্রবার থেকেই কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে ফের দুর্যোগ শুরু হতে চলেছে। এই বৃষ্টি চলবে বিজয়া দশমী পর্যন্ত, ফলে ঠাকুর দেখার পরিকল্পনায় ব্যাঘাত ঘটার আশঙ্কা।

উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া গভীর নিম্নচাপটি আজ থেকেই সক্রিয় হচ্ছে। এটি শনিবার অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা উপকূলে স্থলভাগে প্রবেশ করবে।

পঞ্চমী থেকে বাড়বে দুর্যোগ, ৯ জেলায় হলুদ সতর্কতা
আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পঞ্চমীর দিন থেকেই বৃষ্টির পরিমাণ বাড়বে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের ৯টি জেলায় জারি করা হয়েছে হলুদ সতর্কতা:

জেলা: দক্ষিণ ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, দুই বর্ধমান এবং নদিয়া।

এই জেলাগুলিতে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বৃষ্টির সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে দমকা ঝোড়ো বাতাস বইতে পারে। উপকূলের জেলাগুলিতে ঝড়ের গতিবেগ ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।

নবমী ও দশমীতে বড় আশঙ্কা

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, অষ্টমীর সময় বঙ্গোপসাগরে আরও একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরপর নিম্নচাপ এবং ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে নবমীর রাত থেকে দুর্যোগ আরও বাড়তে পারে। আকাশ মেঘলা থাকার সঙ্গে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা থাকছে।

সমুদ্র উপকূলে সতর্কতা
এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সমুদ্র উত্তাল থাকবে। সমুদ্রে ঝড়ের গতিবেগ ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। তাই রবিবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বাংলার পাশাপাশি ওড়িশার মৎস্যজীবীদের জন্যও এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকছে।

উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ার—এই তিন জেলাতেও বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করেছে আলিপুর হাওয়া অফিস।