ঐতিহাসিক মাইলফলক! নাগাল্যান্ডের মলভোমে পৌঁছল সিমেন্টের প্রথম রেক, বদলে যাবে উত্তর-পূর্ব ভারতের অর্থনীতি

বিমান পথে উচ্চ ভাড়া এবং সড়ক পথে দুর্গম পাহাড়ের কারণে যেখানে পণ্য পরিবহণ কঠিন, সেখানে রেল মাধ্যমই উত্তর-পূর্ব ভারতের এই গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের প্রধান ভরসা। এই আবহে নাগাল্যান্ডের মলভোম রেলওয়ে স্টেশনে সিমেন্টের প্রথম রেক সফলভাবে আনলোড করে এক উল্লেখযোগ্য মাইলফলক অর্জন করল উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে (NFR)।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তেলেঙ্গানার মেলাচেরুভু থেকে সিমেন্ট বোঝাই ৪১টি ওয়াগন নিয়ে গঠিত এই রেকটি মলভোম স্টেশনে পৌঁছয়। মেসার্স নর্থ ইস্ট ইনফ্রা নেটওয়ার্কের জন্য সফলভাবে আনলোড করা হয় এই পণ্য।

এটি মলভোম রেলওয়ে স্টেশনে প্রথম রেক পরিবহন, যা এই অঞ্চলে রেল যোগাযোগ এবং পরিকাঠামোকে নতুন করে শক্তিশালী করবে। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে অর্থনৈতিক বিকাশ এবং স্থায়ী লজিস্টিককে সমর্থন করার জন্য উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মালবাহী সুবিধা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি অব্যাহত রেখেছে।

এই রেকটি ২,৬২৪ টন সিমেন্ট নিয়ে তেলেঙ্গানার মেলাচেরুভু থেকে নাগাল্যান্ডের মলভোম রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত ২,৫০০ কিলোমিটারেরও অধিক দূরত্ব অতিক্রম করে। এর ফলে উদ্যোগগুলি সাশ্রয়ী এবং পরিবেশ বান্ধব পরিবহন সুবিধা পেল, যা রাজ্যের আর্থ-সামাজিক বিকাশে বড় অবদান রাখবে।

উত্তর পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা জানান, “জাতির লাইফলাইন হিসেবে ভারতীয় রেলওয়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তার নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের জন্য সমর্পিত। মলভোমে এই প্রথম রেকের সফল প্লেসমেন্ট, ২০৩০ সালের মধ্যে নেট জিরো অর্জনের প্রতিশ্রুতি অনুসারে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করে দূর-দূরের অঞ্চলে নির্ভরযোগ্য রেল পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমাদের নিরন্তর প্রচেষ্টার প্রতিফলন।”

উল্লেখ্য, ৮২.৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ ডিমাপুর-কোহিমা রেললাইন (যা নাগাল্যান্ডে ৭৯.৭৫ কিমি বিস্তৃত) অসমের ধনশিরি থেকে কোহিমার জুবজা পর্যন্ত বিস্তৃত। এই পথে ইতিমধ্যেই ১৬.৫ কিলোমিটার লম্বা ধনশিরি-শোখুভি সেকশনটি ২০২১ সালের অক্টোবরে এবং সদ্য সমাপ্ত ১৪.৬৪ কিলোমিটার শোখুভি-মলভোম সেকশনটি ২০২৫ সালের মার্চে চালু করা হয়েছে। এই লাইনটিতে মোট আটটি স্টেশন, ২৭টি মেজর ব্রিজ এবং ৩১ কিলোমিটার বিস্তৃত ২০টি টানেল রয়েছে।