Gen Z আন্দোলন নাকি কংগ্রেসের চক্রান্ত? লেহ-তে সংঘর্ষের পর উত্তাল রাজনীতি, কী বললেন অভিযুক্ত সোনম ওয়াংচুক?

লাদাখকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা এবং সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের অন্তর্ভুক্তির দাবিতে চলা আন্দোলন ফের রক্তাক্ত রূপ নিয়েছে। বুধবার লেহ-তে মিছিল চলাকালীন অগ্নিসংযোগ ও সংঘর্ষে অন্তত চার জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় ২২ জন পুলিশকর্মীসহ ৫৯ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। এই সহিংস পরিস্থিতির জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সরাসরি পরিবেশ-অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুকের “উসকানিমূলক বক্তব্যকে” দায়ী করেছে।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিজেপি সরাসরি কংগ্রেসের দিকে আঙুল তুলেছে। দলের জাতীয় মুখপাত্র সম্বিত পাত্রের দাবি, “আজকের সহিংসতাকে ‘Gen Z আন্দোলন’ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তদন্তে দেখা গিয়েছে, এটি আসলে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ষড়যন্ত্র।” তিনি লেহ-র আপার ওয়ার্ডের কংগ্রেস কাউন্সিলর স্টানজিন সেপাং-এর বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে বিজেপি অফিসে হামলার নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ তোলেন এবং তাঁর সঙ্গে রাহুল গান্ধীর ঘনিষ্ঠতার প্রসঙ্গও টেনে আনেন।

অন্যদিকে, ভিডিও বার্তায় সোনম ওয়াংচুক বিজেপির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেন, কংগ্রেসের পক্ষে এত প্রভাব বিস্তার করা সম্ভব নয় যে হাজার হাজার মানুষ তাদের নির্দেশে রাস্তায় নামবেন। তিনি বলেন, তাঁর অনশন ছিল মূলত লাদাখকে ষষ্ঠ তফসিলভুক্ত করা এবং পূর্ণ রাজ্যের দাবিকে সামনে রেখে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বুধবার দুপুর আড়াইটার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। মন্ত্রক সতর্ক করেছে যাতে পুরোনো ও বিভ্রান্তিকর ভিডিও প্রচার না করা হয়। মন্ত্রক জানিয়েছে, লাদাখবাসীর দাবি পূরণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির আলোচনায় ইতিমধ্যেই বহু অগ্রগতি হয়েছে।

মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী:

লাদাখে তফসিলি উপজাতিদের সংরক্ষণ ৪৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮৪ শতাংশ করা হয়েছে।

মহিলাদের জন্য পরিষদে এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষিত হয়েছে।

ভুটি ও পুরগি ভাষাকে সরকারি ভাষার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

১,৮০০ শূন্যপদের নিয়োগ প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

মন্ত্রকের অভিযোগ, “কিছু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যক্তি এই অগ্রগতিতে সন্তুষ্ট নন। তাঁরা সংলাপ প্রক্রিয়াকে ভণ্ডুল করার চেষ্টা করছেন।” কেন্দ্র সোনম ওয়াংচুকের আরব বসন্ত ও নেপালের ‘Gen Z আন্দোলন’-এর উল্লেখকে উসকানি হিসেবে দেখছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২৪ সেপ্টেম্বর সকালে ওয়াংচুকের অনশন মঞ্চ থেকে বেরিয়ে আসা জনতার একাংশ বিজেপি কার্যালয়, প্রশাসনিক দফতরে হামলা চালায় ও পুলিশ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয়। মন্ত্রকের মতে, “সহিংস জনতা স্পষ্টতই ওয়াংচুকের বক্তব্যে প্রভাবিত হয়েছিল। ঘটনাচক্রে এই সময়েই তিনি তাঁর অনশন ভেঙে দেন।”

কেন্দ্র জানিয়েছে, লাদাখের নেতাদের সঙ্গে সংলাপ অব্যাহত রয়েছে। আগামী ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর আলোচনার বৈঠক এবং ৬ অক্টোবর উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির পরবর্তী বৈঠক নির্ধারিত হয়েছে।