কঙ্গোয় ইবোলার ভয়াবহ থাবা! ৯০০ ছাড়াল আক্রান্তের সংখ্যা, ভ্যাকসিনের অভাবে উদ্বেগ তুঙ্গে

আবারও ইবোলা ভাইরাসের আতঙ্কে কাঁপছে কঙ্গো। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর ডিরেক্টর-জেনারেল টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসাস জানিয়েছেন, দেশটিতে বর্তমানে ৯০০-রও বেশি সন্দেহভাজন ইবোলা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ওই অঞ্চলের তীব্র নিরাপত্তাহীনতা এবং স্থানীয় মানুষের অনাস্থা।
আতঙ্কের কারণ ‘বুন্দিবুগিও’ প্রজাতি
বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে এই ভাইরাসের প্রজাতিটি। কঙ্গোতে ছড়িয়ে পড়া এই ইবোলা ভাইরাসটি মূলত ‘বুন্দিবুগিও’ (Bundibugyo) প্রজাতির। উদ্বেগের বিষয় হলো, এই নির্দিষ্ট প্রজাতির ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য এখনও কোনো অনুমোদিত ভ্যাকসিন বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়নি। ফলে সংক্রমণ ঠেকানোই এখন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
দুর্গম এলাকায় লড়াই
ইটুরি প্রদেশের মতো দুর্গম ও অসুরক্ষিত এলাকাগুলোতেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং সহযোগী সংগঠনগুলো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসাস জানিয়েছেন, “এই অঞ্চলের মানুষ শুধু ইবোলার সঙ্গেই লড়ছে না, আরও নানা রোগের মোকাবিলা করতে হচ্ছে তাদের।” পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে আক্রান্ত এলাকা থেকে আসা যাত্রীদের জ্বর পরীক্ষা এবং অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
ইবোলার ভয়ংকর ইতিহাস
১৯৭৬ সালে প্রথম ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত হয়। তবে ২০১৪-২০১৬ সালের প্রাদুর্ভাব ছিল মানব ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ অভিজ্ঞতা, যা গিনি থেকে শুরু হয়ে সিয়েরা লিওন এবং লাইবেরিয়া পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল। ইবোলার প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে তীব্র জ্বর, শরীর দুর্বল হয়ে পড়া, পেশিতে ব্যথা এবং রক্তক্ষরণ। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরলের সংস্পর্শ থেকেই মূলত এই ভাইরাস সংক্রামিত হয়।
২০১৪ সালের মতো মহামারি যেন পুনরায় ফিরে না আসে, সেজন্য আফ্রিকান দেশগুলোতে দ্রুত আরও বেশি চিকিৎসাসামগ্রী এবং বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।