পাহালগাম হামলায় বড় সাফল্য! লস্কর-এর সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করল জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ

পাহালগাম হামলায় বড় সাফল্য! লস্কর-এর সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করল জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ

২২ এপ্রিলের পাহালগাম হামলার সন্ত্রাসীদের রসদ সরবরাহকারী মোহাম্মদ ইউসুফ কাটারিয়াকে বুধবার (২৪ আগস্ট) গ্রেফতার করেছে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ। কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, অপারেশন মহাদেব চলাকালীন উদ্ধার করা অস্ত্রের ফরেনসিক বিশ্লেষণের পর কাটারিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সূত্র অনুযায়ী, তাকে দ্রুত আদালতে পেশ করা হবে।

কে এই মোহাম্মদ ইউসুফ কাটারিয়া?

২৬ বছর বয়সী মোহাম্মদ ইউসুফ কাটারিয়া কাশ্মীর উপত্যকার কুলগামের বাসিন্দা। সে পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী এক যাযাবর সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। লস্কর-ই-তৈবার সন্ত্রাসীরা দক্ষিণ কাশ্মীরের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াতের জন্য এই পাহাড়ি ও বনাঞ্চল ব্যবহার করত।

সূত্র অনুযায়ী, কাটারিয়া আগে চুক্তির ভিত্তিতে চাকরি করত এবং স্থানীয় শিশুদের পড়াত। কয়েক মাস আগে সে লস্কর-ই-তৈবার কিছু সন্ত্রাসীর সংস্পর্শে আসে এবং তাদের সাহায্য করতে শুরু করে। জানা গেছে, পাহালগাম হামলার কয়েক মাস আগে সে লস্করের সন্ত্রাসীদের কুলগামের বনাঞ্চল পার হতে সাহায্য করেছিল। কাটারিয়া লস্করের প্রক্সি সংগঠন দ্য রেসিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (TRF)-এর সন্ত্রাসীদের জন্য ঘর, খাবার এবং অস্ত্রের ব্যবস্থা করত।

সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে সাহায্য করবে

পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থার মতে, কুলগাম থেকে গ্রেফতার হওয়া কাটারিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দক্ষিণ কাশ্মীরে সক্রিয় সন্ত্রাসীদের সম্পর্কে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে, যা তাদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে সাহায্য করবে। উল্লেখ্য, পাহালগাম হামলার পর থেকেই নিরাপত্তা বাহিনী কাশ্মীর উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় ‘অপারেশন মহাদেব’ শুরু করেছে। এর আওতায় জুলাই ২০২৫-এ লস্করের শীর্ষ কমান্ডার সুলেমান শাহ ছাড়াও সন্ত্রাসী আফগান এবং জিবরানকে হত্যা করা হয়েছে।

২২ এপ্রিল পাহালগামের বাইসরন উপত্যকায় সন্ত্রাসীদের নির্বিচারে গুলিবর্ষণে ২৬ জন নিরীহ পর্যটক নিহত হয়েছিলেন। এর কয়েক দিন পর ভারতীয় সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সিন্দুর’ শুরু করে এবং পাকিস্তান ও তার অধিকৃত কাশ্মীরে অবস্থিত ৯টি সন্ত্রাসী আস্তানায় হামলা চালিয়ে ১০০ জনেরও বেশি সন্ত্রাসীকে হত্যা করে।