পুজোর মুখে কেন হঠাৎ সিএএ শিবির, দুর্গা পুজোয় বিজেপি কার্যালয়ে আবেদন গ্রহণ, তৃণমূলের কটাক্ষ

দুর্গাপুজোর আগে হাতে গোনা মাত্র কয়েকটি দিন বাকি। আর ঠিক তার আগেই দুর্গাপুরের বিজেপি কার্যালয়ে আচমকা আয়োজন করা হলো সিএএ (CAA) বা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বিষয়ক একটি শিবির। রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনা নিয়ে জোর তরজা শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস এই শিবিরকে কটাক্ষ করে বলেছে, বিজেপি সরকারি নিয়ম ভেঙে ভোটব্যাঙ্কের জন্য উদ্বাস্তুদের মন পেতে চাইছে।
বিজেপি কার্যালয়ে ‘সরকারি’ শিবির?
শনিবার সকাল থেকেই দুর্গাপুরের ৩১ নম্বর বিদ্যাসাগর অ্যাভিনিউয়ে অবস্থিত বিজেপি কার্যালয়ে এই শিবির শুরু হয়। সেখানে সকাল থেকে ভিড় করেন অসংখ্য মানুষ। বিজেপির কর্মীরা আবেদনপত্র গ্রহণ ও সংরক্ষণ করতে ব্যস্ত ছিলেন, যা দেখে অনেকটা সরকারি অফিসের মতোই মনে হচ্ছিল। এই শিবিরের উদ্বোধন করেন হরিণঘাটার বিজেপি বিধায়ক অসীম সরকার। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক লক্ষণ ঘড়ুই-সহ অন্যান্য বিজেপি নেতারা।
তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন বিধায়ক
শিবিরের উদ্বোধন করে বিজেপি বিধায়ক অসীম সরকার বলেন, “যাঁরা উদ্বাস্তু আছেন, তাঁদের ভারত সরকার নাগরিকত্ব দিতে চায়। কিন্তু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এই উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন। দীর্ঘদিন ধরে ওপার বাংলা থেকে এপারে এসে বসবাস করা মানুষদের নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্যই এই শিবির।” তিনি তৃণমূলের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস কী বলল, তাতে আমাদের কিছু এসে যায় না।”
নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানাবে তৃণমূল
অন্যদিকে, এই শিবির নিয়ে সরব হয়েছেন তৃণমূলের জেলা মুখপাত্র উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “ভারত সরকারের কর্মসূচি সরকারি দফতরেই হওয়া উচিত। বিজেপি দলীয় কার্যালয়ে ক্যাম্প মানে ভোটের আগে উদ্বাস্তুদের মন পাকা করার খেলা।” তিনি জানান, তৃণমূল এর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানাবে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, পুজোর মুখে হঠাৎ করে এই সিএএ শিবির আয়োজনের পেছনে বিজেপির কৌশল স্পষ্ট। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে সিএএ-কে অন্যতম প্রধান হাতিয়ার করতে চায় গেরুয়া শিবির। দলের কার্যালয়ে শিবির তৈরি করে সেই কাজই শুরু করে দিল বিজেপি।