মোদি ঘুরে যেতেই কেন আবার উত্তপ্ত হলো মণিপুর? সন্ত্রাসী হামলায় হতবাক রাজ্যবাসী।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মণিপুর সফরের মাত্র এক সপ্তাহ পরেই, বিষ্ণুপুর জেলায় ফের সন্ত্রাসী হামলায় রক্তাক্ত হলো পরিস্থিতি। শুক্রবার সন্ধ্যায় অসম রাইফেলসের একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলে দুই জওয়ান শহীদ হন এবং অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হন।
পুলিশ সূত্রে খবর, অসম রাইফেলসের ৩৩ নম্বর ইউনিটের জওয়ানদের একটি মিনি ট্রাক রাজধানী ইম্ফল থেকে বিষ্ণুপুরের দিকে যাচ্ছিল। সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ নাম্বোল সবাল লেইকাই এলাকায় ২ নম্বর জাতীয় সড়কের ওপর আচমকাই গাড়িটির ওপর হামলা চালায় জঙ্গিরা। প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, এই হামলা মায়ানমার সীমান্ত পেরিয়ে আসা কুকি জঙ্গিদের কাজ।
এই হামলার পরই ওই এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী পাঠানো হয়েছে এবং পাহাড়-জঙ্গল ঘিরে চিরুনি তল্লাশি শুরু হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সম্প্রতি ওই এলাকা থেকে ‘সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন’ (AFSPA) প্রত্যাহার করা হয়েছিল। গত শনিবার প্রধানমন্ত্রী মোদি ঠিক এই পথ দিয়েই তাঁর কনভয় নিয়ে গিয়েছিলেন।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর দীর্ঘ বিতর্কের পর মণিপুরে পা রাখেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। চুড়াচাঁদপুরের এক জনসভায় তিনি হিংসা ভুলে শান্তির বার্তা দেন এবং বলেন, “উন্নয়নের জন্য শান্তি জরুরি।” তিনি আরও জানান, কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা করছে।
কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সফরের পরপরই এই ধরনের হামলার ঘটনা রাজ্যের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। ২০২৩ সাল থেকে কুকি ও মেইতেই গোষ্ঠীর মধ্যে চলমান হিংসার জেরে মণিপুরের পরিস্থিতি এখনো সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়নি।
হামলার খবর প্রকাশ্যে আসার পর মণিপুরের রাজ্যপাল অজয় কুমার ভাল্লা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এক্স হ্যান্ডেলে মণিপুর রাজভবনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “এই কাপুরুষোচিত হামলা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য প্রশাসন কড়া হাতে পরিস্থিতি সামাল দেবে। অপরাধীরা যোগ্য জবাব পাবে।” তিনি শহীদ জওয়ানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।