“প্রাথমিক শিক্ষকেরা ঘরে বসে বসে বেতন নেবে”- শিক্ষকদের উপর ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট

প্রাথমিক শিক্ষকদের ‘ব্রিজ কোর্স’ সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “প্রাথমিক শিক্ষকেরা ঘরে বসে বসে বেতন উপার্জন করবে। কোনও কাজই করতে চায়না।” বিচারপতির এই কড়া মন্তব্যে আদালত কক্ষে এক ধরনের অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়। শিক্ষকদের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয় যে, ‘ব্রিজ কোর্স’-এর প্রশিক্ষণের কারণে তাদের পক্ষে ‘বিএলও’ (বুথ লেভেল অফিসার)-এর কাজ করা সম্ভব নয়।
শিক্ষকদের আইনজীবী আদালতকে জানান, তাদের ৬ মাসের ‘ব্রিজ কোর্স’ চলছে, যার জন্য তাদের দরজায় দরজায় গিয়ে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত কাজ করা কঠিন। তারা আদালতের কাছে ‘বিএলও’ ডিউটি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য আবেদন জানান। এর জবাবে বিচারপতি সিনহা বলেন, “ব্রিজ কোর্স করায় কোনও বাধা না দিয়ে এই কাজ করতে হবে। মামলাকারী শিক্ষকেরা ব্রিজ কোর্সও করতে চায়না। আবার বিএলও হিসেবেও কাজ করতে চায় না। শুধু ঘরে বসে টাকা উপার্জন করতে চায়।” তিনি আরও বলেন, “এই প্রাথমিক শিক্ষকদের কিছুই করতে হবে না।”
নির্বাচন কমিশন এই বিষয়ে যুক্তি দেয় যে, বিএলও-দের কাজ সাধারণত সন্ধ্যায় হয়, যা শিক্ষকদের স্কুলের কাজ বা প্রশিক্ষণে কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না। কমিশন আরও জানায় যে, ভোটাররা একটি স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চায়, আর এই কাজ না করার জন্য আবেদনকারী শিক্ষকদের আইনজীবীরাই উৎসাহিত করছেন। সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি অমৃতা সিনহা নির্দেশ দেন যে, স্কুলের পড়াশোনা এবং ‘ব্রিজ কোর্স’-এর সময়সূচির কোনো ক্ষতি না করে আবেদনকারীদের ‘বিএলও’ কাজে নিযুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।