‘শাস্তি নয়, সংশোধনই মূল লক্ষ্য’, আরও ৪৫ জন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিকে মুক্তি রাজ্যের

পশ্চিমবঙ্গ সরকার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আরও ৪৫ জন বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই টুইট করে এই খবরটি জানান। দীর্ঘ কারাবাসে ভালো আচরণের স্বীকৃতি হিসেবেই তাদের মুক্তি দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন এবং বন্দিদের পাশাপাশি তাদের পরিবারকেও অভিনন্দন জানান।

মুখ্যমন্ত্রীর মতে, সংশোধনাগারের প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো অপরাধীকে শাস্তি দেওয়ার পাশাপাশি তার মানসিকতা পরিবর্তন করে সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই বন্দিরা নতুন জীবনে সুনাগরিক হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করবেন এবং সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, “এই মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দিরা তাঁদের নতুন ও মুক্ত জীবনে সুনাগরিক হয়ে উঠবেন – তাহলেই আমাদের প্রচেষ্টা সফল হবে।”

সংশোধনই আসল লক্ষ্য: কারা দফতরের পদক্ষেপ
রাজ্যের এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ হলো বন্দিদের সুশৃঙ্খল জীবনযাপন ও সংশোধনাগারে তাদের ভালো আচরণ। এর আগে গত জুলাই মাসে মেদিনীপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার থেকেও একই কারণে তিন জন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। সেসময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের মুক্তির সুপারিশ করেছিল, যা রাজ্যের ‘স্টেট সেন্টেন্স রিভিউ বোর্ড’ অনুমোদন করে। এবারও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৮৪০ জন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে রাজ্য সরকার। কারা দফতরের মতে, বন্দিদের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা তাদের মূল উদ্দেশ্য, আর এই মুক্তি সেই নীতিরই প্রতিফলন। এই পদক্ষেপ সংশোধনাগারে থাকা অন্য বন্দিদেরও ভালো আচরণের প্রতি উৎসাহিত করবে।

সমাজ এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। দীর্ঘ কারাবাসের পর নতুন জীবনে পা রাখার এই সুযোগ নিঃসন্দেহে বন্দিদের জীবনে নতুন আলো নিয়ে আসবে। এখন দেখার বিষয়, সমাজ তাদের কীভাবে গ্রহণ করে।