‘সরকারি জায়গা হলে কড়া ব্যবস্থা’, শান্তিপুরের গাছ কাটা নিয়ে কেন তদন্তের নির্দেশ দিলেন পৌরসভার চেয়ারম্যান

রাস্তার পাশে থাকা শতাব্দী প্রাচীন তিনটি তেঁতুল গাছ বেআইনিভাবে কাটার চেষ্টার অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শান্তিপুরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাঘাযতীন পাড়ায় এই ঘটনাটি ঘটেছে। সচেতন নাগরিকদের তৎপরতায় খবর পেয়ে বন দফতর এবং শান্তিপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাছ কাটা বন্ধ করে।

কী ঘটেছিল?
এলাকা সূত্রে জানা গেছে, কিছু প্রোমোটার গোপনে এই গাছগুলো কাটার পরিকল্পনা করেছিল। তাদের দাবি, প্রায় এক দশক আগে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি মিলে ওই জমি কিনে প্লট করে বিক্রি করেছেন। সেই জমির একাংশে থাকা প্রাচীন জলাশয় ইতিমধ্যেই বিক্রি হয়ে গেছে। এবার রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা তিনটি তেঁতুল গাছ কাটার চেষ্টা করা হচ্ছিল।

সোমবার সকালে একটি গাছ কাটার সময় পথচলতি সচেতন নাগরিকরা মোবাইলে ছবি তুলে বন দফতর এবং বিভিন্ন সরকারি আধিকারিকদের কাছে পাঠান। এর পরেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। অভিযুক্তদের একজন বীরেন দেবনাথ দাবি করেন যে, তারা বন দফতরকে জানিয়েই গাছ কাটছেন। যদিও বন দফতর জানায়, তাদের থেকে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি।

প্রশাসনিক পদক্ষেপ
বন দফতরের আধিকারিকরা পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাছ কাটা বন্ধ করে দেন। পরিবেশপ্রেমীরা এই ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

শান্তিপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান সুব্রত ঘোষ জানান, গাছ কাটার অনুমতি পৌরসভা দেয় না, বরং ডিএফও (DFO) বা বন দফতর থেকে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, “যদি সেটি সরকারি জায়গা হয় বা পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে সরেজমিনে মাপজোক করে বিষয়টি দেখা হবে এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” বর্তমানে, পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।