বিনামূল্যে রেশনে কোপ? ৮ কোটি ৯২ লক্ষ গ্রাহকের বরাদ্দ কমানোর পরিকল্পনা কেন্দ্রের

দুর্মূল্যের বাজারে দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে এবার গরিবদের বিনামূল্যে রেশনে কাটছাঁটের পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র। একটি গোপনীয় সরকারি নথিতে এমনটাই জানা গেছে। যদি এই পরিকল্পনা কার্যকর হয়, তবে অন্তোদয় অন্ন যোজনা (AAY)-এর প্রায় ৮ কোটি ৯২ লক্ষ রেশন গ্রাহক বর্তমানের চেয়ে কম খাদ্যশস্য পাবেন। সরকারের এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো খরচ কমানো।

বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনা (PMGKAY)-এর অধীনে দুই ধরনের রেশন কার্ড গ্রাহক রয়েছেন: প্রায়োরিটি হাউসহোল্ড এবং অন্তোদয় অন্ন যোজনা (AAY)। প্রায়োরিটি হাউসহোল্ডের গ্রাহকরা মাথাপিছু ৫ কেজি করে রেশন পান, কিন্তু অন্তোদয় যোজনার আওতায় থাকা অতি দরিদ্র পরিবারগুলো সদস্য সংখ্যা যাই হোক না কেন, পরিবারপ্রতি ৩৫ কেজি করে খাদ্যশস্য পায়।

কেন্দ্রীয় খাদ্য মন্ত্রকের প্রস্তাব অনুযায়ী, এই পুরনো নিয়ম বদলানো হবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অন্তোদয় কার্ডধারীরাও এখন থেকে পরিবারভিত্তিক নয়, বরং মাথাপিছু রেশন পাবেন। এর ফলে সরকারের মাসিক প্রায় ১,১৩২ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সরকারের যুক্তি হলো, অন্তোদয় যোজনার অনেক পরিবারেই সদস্য সংখ্যা কম। কিন্তু ৩৫ কেজি করে রেশন পাওয়ায় অতিরিক্ত খাদ্যশস্য নষ্ট হচ্ছে এবং সরকারের খরচ বাড়ছে। মন্ত্রকের হিসাবে, অন্তোদয় পরিবারগুলোতে গড়ে ৭ জন সদস্য ধরে রেশন দেওয়া হয়, কিন্তু বাস্তবে ৭ জনের পরিবার খুবই কম। বেশিরভাগ পরিবারে সদস্য সংখ্যা ১ থেকে ৪ জন। এর ফলে প্রতি মাসে অতিরিক্ত প্রায় ২ লক্ষ ৩৩ হাজার টন চাল ও গম বিতরণ করতে হচ্ছে।

নতুন ব্যবস্থায়, যদি কোনো অন্তোদয় পরিবারে চারজন সদস্য থাকেন, তবে তারা ৩৫ কেজির বদলে মাথাপিছু ৫ কেজি করে মোট ২০ কেজি রেশন পাবেন।

এই পরিকল্পনার কথা জানতে পেরে দেশজুড়ে রেশন ডিলাররা এর তীব্র বিরোধিতা করছেন। অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু এই উদ্যোগকে ‘জনবিরোধী’ এবং ‘গরিববিরোধী’ আখ্যা দিয়েছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে এই পরিকল্পনা বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। ডিলাররা মনে করছেন, এই পরিবর্তন অতি দরিদ্র পরিবারগুলোর জীবনকে আরও কঠিন করে তুলবে।

বিরোধী দলগুলোও এই ইস্যুতে সরব হয়েছে এবং তারা এই পদক্ষেপকে মোদী সরকারের গরিববিরোধী নীতির উদাহরণ হিসেবে দেখছে। এই পরিবর্তনের জন্য জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইন সংশোধন করতে হবে, যা সংসদে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

এই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয় কিনা, তা এখন দেখার বিষয়। তবে এটি ভারতের গণবণ্টন ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।