বিমানের বদলে এই ট্রেনেই সফর করা পছন্দ করেন উত্তর কোরিয়ার কিম? জেনেনিন কেন?

উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং উন কেন বিদেশ সফরে সবসময় ট্রেনে চড়েন, তা নিয়ে অনেকের মনে কৌতূহল রয়েছে। অনেকে মনে করেন, তিনি হয়তো বিমানে চড়তে ভয় পান। কিন্তু আসল কারণটি হলো নিরাপত্তা, পারিবারিক ঐতিহ্য এবং এক চরম বিলাসিতা। কিমের এই বিশেষ ট্রেনের নাম ‘দ্য সান ট্রেন’, যা কোনো সাধারণ যানবাহন নয়, বরং একটি চলন্ত দুর্গ।

চলন্ত দুর্গ: নিরাপত্তার চূড়ান্ত ব্যবস্থা
কিমের এই ট্রেনটি সম্পূর্ণ বুলেটপ্রুফ এবং এতে ভারী অস্ত্রশস্ত্র মজুত থাকে। কঠোর নিরাপত্তার কারণে ট্রেনের গতিবেগ থাকে ঘণ্টায় মাত্র ৬০ কিলোমিটার। এই ধীর গতির পেছনে প্রধান উদ্দেশ্য হল যেকোনো ধরনের হামলা এড়ানো এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ট্রেনটি কিমের জন্য শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, এটি তাঁর চলন্ত দপ্তর এবং একটি বিলাসবহুল প্রাসাদও বটে।

ঐতিহ্য ও ক্ষমতার প্রতীক
এই বিশেষ ট্রেনটি কিম জং উনের বাবা কিম জং ইলের আমল থেকে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। শোনা যায়, কিম জং ইল বিমানকে ভয় পেতেন, তাই তিনি এই ট্রেন ব্যবহার শুরু করেন। কিম জং উন যদিও বিমানে চড়তে ভয় পান না, তবুও রাশিয়া বা চীনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সফরে তিনি এই ট্রেনকেই বেছে নেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি কেবল পারিবারিক ঐতিহ্যকেই বহন করছেন না, বরং কিম বংশের শাসনের ধারাবাহিকতা এবং ক্ষমতার প্রতীক হিসেবেও এটি কাজ করছে।

বিলাসবহুল আয়োজন
এই ট্রেনটির ভেতরে বিলাসবহুল আয়োজনের কোনো কমতি নেই। ফরাসি ওয়াইন থেকে শুরু করে বিশ্বের সেরা সব খাবার এখানে পরিবেশন করা হয়। এমনকি কিমের ব্যক্তিগত বুলেটপ্রুফ লিমুজিন গাড়ি, যেমন মার্সিডিজ বা ভ্লাদিমির পুতিনের উপহার দেওয়া অরাস সেনেট গাড়ি বহনের জন্য ট্রেনের মধ্যে আলাদা বগি রয়েছে।

আসলে এই ট্রেনটি কিমের ক্ষমতা, গোপনীয়তা এবং আন্তর্জাতিক মহলে নিজেকে এক শক্তিশালী শাসক হিসেবে তুলে ধরার একটি প্রতীক। এটি কেবল একটি ভ্রমণ মাধ্যম নয়, বরং কিমের একচ্ছত্র শাসন ও বিলাসিতার এক প্রতিচ্ছবি।