“দুপুরে TMC -তে যোগ, বিকেলে BJP তে প্রত্যাবর্তন”-বাঁকুড়ায় অস্বস্তিতে দুই শিবিরই

একই দিনে দলবদল, ফের প্রত্যাবর্তন— বুধবার বাঁকুড়ার ওন্দা ব্লকে এক অভিনব রাজনৈতিক নাটক দেখা গেল। দুপুরে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন দুই পঞ্চায়েত সদস্য। কিন্তু সন্ধ্যা গড়াতে না গড়াতেই তাঁদের একজন ফিরে এলেন পুরনো শিবিরে। এই ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়েছে রাজ্যের শাসকদল।

ঘটনার সূত্রপাত বাঁকুড়ার চিঙ্গানি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে এই পঞ্চায়েতে ১৩টি আসনের মধ্যে ৭টিতে জয়ী হয়ে বোর্ড গঠন করেছিল বিজেপি। বাকি আসনগুলোর মধ্যে তৃণমূলের হাতে ছিল ৪টি, সিপিএম-এর হাতে ১টি এবং আইএসএফ-এর হাতে ১টি। পরে সিপিএম-এর একজন সদস্য তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় তৃণমূলের সদস্য সংখ্যা হয় ৫। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য তৃণমূলের প্রয়োজন ছিল আরও দুটি আসন।

বুধবার দুপুরে বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তৃণমূলের নেতারা ঘোষণা করেন যে, ২৬০এ কামারকাঁটা বুথের বিজেপি সদস্য তারাপদ পাল এবং ২৬০বি কামারকাঁটা বুথের বিজেপি সদস্য গণেশ মল্ল তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। এই যোগদানের ফলে তৃণমূলের আসন সংখ্যা ৭-এ পৌঁছানোয় পঞ্চায়েত বোর্ড গঠনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা কার্যত নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল।

হঠাৎ মন বদল
কিন্তু নাটকীয় মোড় নেয় বিকেলে। কয়েক ঘণ্টা পরেই গণেশ মল্ল ওন্দার রামসাগর এলাকার বিজেপির কার্যালয়ে গিয়ে ফের গেরুয়া শিবিরে ফিরে আসেন। তিনি অভিযোগ করেন, তাকে ভুল বুঝিয়ে, টাকা ও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তৃণমূলে যোগদান করানো হয়েছিল।

বিজেপির বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার যুব মোর্চার সভাপতি কল্যাণ চট্টোপাধ্যায় এই ঘটনায় তৃণমূলকে কটাক্ষ করে বলেন, “টাকার টোপ দেখিয়ে দল ভাঙানোই তৃণমূলের সংস্কৃতি।”

তৃণমূলের পাল্টা জবাব
গণেশের এই অভিযোগের জবাবে বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি সুব্রত দত্ত বলেন, “কাউকে জোর করে যোগদান করানো হয়নি। এখন চিঙ্গানি গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূল এবং বিজেপি দুই দলেরই আসন সংখ্যা ৬।” তিনি আরও বলেন, “আমরা অনাস্থা প্রস্তাব আনতে চলেছি। অনাস্থার দিনই সবটা পরিষ্কার হয়ে যাবে।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, গণেশ মল্লের এই আকস্মিক প্রত্যাবর্তন চিঙ্গানি গ্রাম পঞ্চায়েতে রাজনৈতিক সমীকরণকে আবারও অনিশ্চিত করে তুলেছে।