টুইট নয়, বিজেপিকে কুইট করার বার্তা, চন্দ্রিমা-শুভেন্দুর বাগযুদ্ধ, কে কী বললেন?

শারদোৎসবের আবহেই বাংলার রাজনীতিতে পারদ চড়তে শুরু করেছে। আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলীয় কর্মীদের চাঙ্গা করতে শাসকদল ও বিরোধীদল উভয়েই ময়দানে নেমে পড়েছে। বুধবার শাসকদলের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, দুজনেই পৃথক কর্মসূচি থেকে একে অপরকে আক্রমণ করলেন।

পূর্ব বর্ধমানের সংস্কৃতি লোকমঞ্চে এক কর্মিসভায় রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য তৃণমূল কর্মীদের বিজেপিকে হটিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আবারও মুখ্যমন্ত্রী করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আমাদের সরকারের উন্নয়নমূলক কাজগুলো বেশি করে প্রচার করুন।”

মন্ত্রী জানান, সরকারের বাজেটে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, দীপাবলির আগেই রাজ্যের আইসিডিএস ও আশাকর্মীদের অ্যাকাউন্টে স্মার্টফোন কেনার জন্য বরাদ্দ টাকা ঢুকে যাবে। এই সিদ্ধান্তটি কর্মীদের মনোবল বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শুভেন্দু অধিকারীর নাম না করে চন্দ্রিমা তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, “ওদের কে একজন আছেন, সর্বক্ষণ টুইট করে। কিছুদিন আগে জাতীয় সঙ্গীত নিয়েও ভুলভাল কথা লিখেছিল… এর পরে জনগণ ওদের টুইট করার সুযোগ দেবে না, রাতারাতি কুইট করে দেবে। নবান্নে আবারও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বসবেন।”

অন্যদিকে, আসানসোলে ইস্কো কারখানার সম্প্রসারণ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে তৃণমূলকে আক্রমণ করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ইস্কোর ডিরেক্টর ইনচার্জের কাছে একটি ডেপুটেশন জমা দিয়ে স্থানীয়দের জন্য বেশি করে কর্মসংস্থানের দাবি জানান।

শুভেন্দু অভিযোগ করেন, “বার্নপুর ইস্কো কারখানার সম্প্রসারণ প্রকল্পে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে এবং প্রায় ৭ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হবে। এই কাজে শাসকদলের ‘সিন্ডিকেট’ ঢুকে পড়েছে। এই সিন্ডিকেট রাজের নেপথ্যে রয়েছে তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব।” তিনি আরও বলেন, “ইস্কোর সম্প্রসারণ প্রকল্পের টাকা দেশের মানুষের টাকা, আমরা কোনো অবৈধ কাজ করতে দেব না।”

শুভেন্দুর এই মন্তব্যের জবাবে পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী পাল্টা বলেন, “যারা সিন্ডিকেট চালায়, তারাই সিন্ডিকেটের সদস্যদের চিনতে পারে। বিরোধী নেতার পায়ের তলার মাটি সরে গিয়েছে। তাই তিনি মনগড়া কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন।” তিনি আরও দাবি করেন যে, মুখ্যমন্ত্রীই ইস্কোর সম্প্রসারণ নিয়ে দিল্লিতে প্রথম দাবি তুলেছিলেন।

পুজোর মুখে এই দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতাদের মুখোমুখি আক্রমণে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।