‘মহানায়ক’-এর প্রথম হিন্দি ছবি, সঙ্গী বলিউডের ‘লক্ষ্মী’,কেন স্বপ্নই থেকে গেল উত্তম-আশার সেই প্রেমকাহিনি

উত্তম কুমারের বলিউড যাত্রার কথা উঠলেই ‘ছোটি সি মুলাকাত’-এর ব্যর্থতার কথা উঠে আসে। কিন্তু অনেকেরই অজানা, এই ছবির আগেও বলিউডে পা রাখার সুযোগ এসেছিল মহানায়কের। আর সেই ছবির প্রস্তাব এসেছিল তৎকালীন বলিউডের এক নম্বর নায়িকা আশা পারেখের কাছ থেকে। সেই সময় তাঁদের নিয়ে তৈরি হচ্ছিল একটি হিন্দি ছবি, যা শেষ পর্যন্ত শুধু স্বপ্নই হয়ে রয়ে গেল।

কেন হলো না সেই ছবি?
ষাট-এর দশকে একটি হিন্দি ছবি তৈরির জন্য মুম্বাই থেকে হঠাৎই ফোন পান উত্তম কুমার। ফোনটি এসেছিল আশা পারেখের ম্যানেজারের কাছ থেকে। এরপরই উত্তম কলকাতার পাট চুকিয়ে মুম্বাইয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হন। ছবির নাম ছিল ‘ঝংকার’। এই ছবিতে উত্তম-আশা পারেখ ছাড়াও ছিলেন রাজেন্দ্রনাথ, গিরিধারি এবং তব্বোসুমের মতো অভিনেতারা। এমনকী, ছবির জন্য তাঁদের ফটোশুট ও কিছু দৃশ্যের শুটিংও হয়েছিল। কিন্তু মাঝপথেই এক অপ্রত্যাশিত ধাক্কা! প্রযোজকের আর্থিক সমস্যার কারণে বন্ধ হয়ে যায় ছবির কাজ। হতাশ হয়ে উত্তম ফিরে আসেন কলকাতায়।

কিসের হিন্দি রিমেক ছিল ‘ঝংকার’?
গুঞ্জন আছে, ‘ঝংকার’ ছবিটি আসলে উত্তম-সুচিত্রা অভিনীত সুপারহিট বাংলা ছবি ‘ইন্দ্রাণী’-র হিন্দি রিমেক ছিল। আবার শোনা যায়, ছবিটি ছিল ‘শাপমোচন’-এর হিন্দি রিমেক। বলা হয়, সুচিত্রার মতো করেই আশাকে সাজিয়ে ফটোশুট করা হয়েছিল। তবে যে ছবিরই রিমেক হোক না কেন, সমালোচকদের মতে এই ছবিটি যদি মুক্তি পেত, তাহলে হয়তো উত্তম কুমারের বলিউড যাত্রা অন্যরকম হতে পারত।

এক ভুল, যা পাল্টে দিতে পারতো ইতিহাস?
ফিল্ম বোদ্ধাদের একাংশ মনে করেন, মুম্বাই ছেড়ে কলকাতায় ফিরে আসা উত্তমের জীবনের একটি বড় ভুল ছিল। যদি তিনি প্রযোজকের সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারতেন এবং আশার সঙ্গে এই ছবিটি করতে পারতেন, তাহলে হয়তো তাঁর বলিউড কেরিয়ার ভিন্ন পথে এগোত। কারণ, সেই সময়ে বক্স অফিসে আশা পারেখের প্রভাব ছিল চোখে পড়ার মতো। তাঁর সঙ্গে জুটি বাঁধলে ‘ছোটি সি মুলাকাত’-এর মতো ব্যর্থতার শিকার হতে হতো না মহানায়ককে। যদি ‘ঝংকার’ আগে মুক্তি পেত, তাহলে হয়তো বলিউডের ইতিহাসেও নতুন অধ্যায় রচিত হতো!