দাগী শিক্ষকের তালিকায় নাম, প্রকাশ্যে জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়ে কান ধরে ওঠবোস তৃণমূল কাউন্সিলরের

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এসএসসি-র প্রকাশিত অযোগ্য শিক্ষকদের তালিকায় নাম আসতেই তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজ্যজুড়ে। এবার পূর্ব মেদিনীপুরের এক তৃণমূল কাউন্সিলর নিজের দলের নেতাদের হয়ে জনগণের কাছে ক্ষমা চাইলেন, যা ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।

কান ধরে ওঠবোস, কেন এই নাটক?
পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর পার্থসারথি মাইতি। পেশায় একজন আইনজীবী। সম্প্রতি তিনি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও পোস্ট করেন, যেখানে তাকে কান ধরে ওঠবোস করতে দেখা যায়। ভিডিওতে তিনি বলেন, তার জেলার কিছু তৃণমূল নেতা নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, কিন্তু তারা মুখ খুলছেন না। তিনি আরও বলেন, রাজ্যের বিরোধী দলনেতাও এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, অথচ তাদের নেতারা চুপ। তাই তাদের হয়ে তিনি জনগণের কাছে ক্ষমা চাইছেন। এই ভিডিওটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।

কারা জড়িত?
পার্থসারথি মাইতি বলেন, টাকার বিনিময়ে অযোগ্য শিক্ষকদের চাকরি পাইয়ে দিয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুরের কিছু তৃণমূল নেতা। কিন্তু তারা মূল চক্রীর নাম প্রকাশ করছেন না। তিনি দাবি করেন, ২০১৬ সালে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় যিনি একচ্ছত্র তৃণমূল নেতা ছিলেন, তার হাত ধরেই এই নিয়োগ হয়েছে। পার্থ বলেন, “শুভেন্দুর মতো একজন মহাচোর আমাদের কিছু স্বার্থান্বেষী নেতার মদতে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। লজ্জার বিষয় হল, এই জেলার সমস্ত তৃণমূল নেতৃত্বই জানেন কে ভুয়ো শিক্ষক নিয়োগের মাস্টারমাইন্ড ছিলেন। কিন্তু মূল চোরের নাম কিছুতেই সামনে আনা হচ্ছে না।”

শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপির প্রতিক্রিয়া
শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছিলেন, তার কোনো আত্মীয় বা ঘনিষ্ঠের নাম অযোগ্যদের তালিকায় নেই। অন্যদিকে, তমলুক পুরসভার বিজেপি কাউন্সিলর শবরী চক্রবর্তী বলেছেন, পার্থ মাইতি নিজেকে প্রচারের কেন্দ্রে আনার জন্য এসব করছেন। তার কথায়, “১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পার্থ মাইতির কথায় তার দলের নেতৃত্বই গুরুত্ব দেন না। এই ব্যক্তি নিজেকে প্রচারের কেন্দ্রে আনার জন্য উল্টোপাল্টা কথা বলছেন।”

তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া
তৃণমূলের তমলুক সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুজিত রায় বলেন, “এই জেলায় কি এখনও শুভেন্দু দল চালাচ্ছেন? উনি একজন আইনজীবী হয়েও কীভাবে এই সব বেআইনি কথা বলছেন? দলের হয়ে লড়াইয়ের নামে তিনি আসলে তৃণমূলকেই ছোট করছেন।”