সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বদলে যাচ্ছে ভারতীয় ফুটবল! এআইএফএফকে গ্লোবাল টেন্ডার ডাকার নির্দেশ

ভারতীয় ফুটবল এখন এক কঠিন সময় পার করছে। একদিকে ফিফার নির্বাসনের খাঁড়া, অন্যদিকে বাণিজ্যিক স্বত্বের জটিলতা। এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্ট সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনকে (AIFF) দ্রুত গ্লোবাল টেন্ডার ডাকার নির্দেশ দিয়েছে। এর উদ্দেশ্য ভারতীয় ফুটবলের মার্কেটিং স্বত্বে স্বচ্ছতা আনা।

কী আছে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে?
সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, AIFF-কে অবিলম্বে গ্লোবাল টেন্ডার ডেকে সর্বোচ্চ দরদাতাকে মার্কেটিং স্বত্বের দায়িত্ব দিতে হবে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এল. নাগেশ্বর রাওকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনিই চূড়ান্তভাবে টেন্ডার অনুমোদন দেবেন। প্রয়োজনে তিনি আরও দুজন সহকারী নিয়োগ করতে পারেন। যদিও এই নির্দেশে ফেডারেশনের নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়নি।

ফুটবল ফেডারেশনের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ
আইএসএল পরিচালনাকারী সংস্থা এফএসডিএল আগেই জানিয়েছিল যে, চুক্তি নবীকরণ না হলে তারা আর লিগ পরিচালনা করবে না। যদিও চলতি বছর আইএসএল আয়োজনের আশ্বাস তারা দিয়েছে, কিন্তু তার পরের পরিস্থিতি অনিশ্চিত। এখন গ্লোবাল টেন্ডার ডাকার পর কোন সংস্থা সর্বোচ্চ দর দিয়ে বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে উঠে আসে, সেটাই দেখার বিষয়। গত কয়েক বছরে এফএসডিএল ভারতীয় ফুটবলে প্রচুর বিনিয়োগ করেছে। এখন নতুন অংশীদার খুঁজে বের করা ফেডারেশনের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ।

এছাড়াও, সুপ্রিম কোর্ট ২০২৫-২৬ ফুটবল মরসুমের সুপার কাপ-সহ অন্যান্য টুর্নামেন্টগুলো সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছে।

নির্বাচনের ভবিষ্যৎ কী?
নির্বাচন নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট আপাতত কোনো নির্দেশ দেয়নি। নতুন স্পোর্টস বিল কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে না। তাই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত। স্পোর্টস বিল চালু হলে সেই অনুযায়ী ফেডারেশনের সংবিধান সংশোধন করে নতুন নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হবে।

বর্তমানে ভারতীয় ফুটবল দুই গুরুত্বপূর্ণ মোড়ের সামনে দাঁড়িয়ে। একদিকে গ্লোবাল টেন্ডারের মাধ্যমে নতুন বাণিজ্যিক অংশীদার খোঁজা, আর অন্যদিকে স্পোর্টস বিল কার্যকর হওয়ার পর ফেডারেশনের নতুন কমিটি গঠন। এই দুটি বিষয় কীভাবে ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে, সেটাই এখন দেখার।