২০১৪ সালের টেট দুর্নীতিতেও বেনিয়ম! হাইকোর্টে পুলিশের ‘নিষ্ক্রিয়তা’ নিয়ে তীব্র ভর্ৎসনা বিচারপতির

এসএসসি’র পর এবার ২০১৪ সালের প্রাথমিক টেট নিয়োগেও দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর ইঙ্গিত মিলেছে। কলকাতা হাইকোর্টে সিবিআই (CBI) জানিয়েছে, নকল ওয়েবসাইট তৈরি করে বাইরের লোকেদের চাকরি দেওয়া হয়েছে এবং ফেল করা প্রার্থীদেরও পাস দেখিয়ে নিয়োগ করা হয়েছে। এই তথ্যের পর বহু শিক্ষকের ভবিষ্যৎ এখন ঘোর অনিশ্চয়তায়। এরই মাঝে, একটি প্রতারণার মামলায় রাজ্যের পুলিশের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ।
প্রাথমিক শিক্ষক পদে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার শিকার হয়ে সুদীপ কর্মকার নামে এক ব্যক্তি হাইকোর্টে মামলা করেন। তাঁর আইনজীবী ফিরদৌস সামিম অভিযোগ করেন, পর্ষদ অফিসে সাদা কাগজে সই করিয়ে সুদীপকে ছেড়ে দেওয়া হয়, কিন্তু তিনি কোনো চাকরি পাননি এবং তাঁর টাকাও ফেরানো হয়নি। এই প্রতারণার অভিযোগ নিয়ে সুদীপের পরিবার প্রথমে গোবরডাঙা থানায় এফআইআর দায়ের করলেও, পুলিশের তদন্তে কোনো অগ্রগতি হয়নি। এরপরই নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে মামলা করা হয়।
গতকাল, সোমবার, কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানিতে পুলিশের তদন্তের প্রতি তীব্র বিরক্তি প্রকাশ করেন তিনি। বিচারপতি বলেন, “পুলিশ তদন্তে কিছুই করেনি। শুধু একটি চার্জশিট জমা দিয়ে দায়িত্ব সেরেছে। সঠিক তদন্ত করতে চেষ্টার অভাব রয়েছে, আবেগের প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, “চাকরি সংক্রান্ত বিষয়ে রাজ্যকে চারিদিকে ভর্ৎসনা করা হচ্ছে, কিন্তু তদন্তকারীদের কোনো হেলদোল নেই। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন, নাহলে মানুষের মনে পুলিশের প্রতি আস্থা তৈরি হবে না।”
বিচারপতি ঘোষ হাবড়ার এসডিপিও-কে নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট জমা দিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি অভিযুক্তকে খুঁজতে সিআইডি-র নিখোঁজ সন্ধান দফতরের সাহায্য নেওয়ার পরামর্শও দেন।
অন্যদিকে, ই-মেল সংক্রান্ত আরেকটি মামলার শুনানিতে রাজ্য জানায়, প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ডের ই-মেল থেকে স্পুফিং করা হয়েছিল, কিন্তু সেটি অন্য ডোমেন থেকে করা হয়, বোর্ডের ডোমেন থেকে নয়। তাই বোর্ডের কোনো কর্মীর জড়িত থাকার প্রমাণ মেলেনি। তবে, এর পরেও দুর্নীতির মূল রহস্যের পর্দা পুরোপুরি ওঠেনি।