Google Map-দেখে ‘রাস্তা’ পার হতে গিয়ে বিপত্তি, নদীর জলের স্রোতে ভেসে গেল গাড়ি

গুগল ম্যাপে অন্ধের মতো ভরসা করলে কী বিপদ হতে পারে, তা আবারও প্রমাণিত হলো মধ্যপ্রদেশের বেতুল জেলায়। বাটকি ডোহ গ্রামে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন দুই যুবক। টানা বৃষ্টির কারণে ফুলে-ফেঁপে ওঠা নদী পার হতে গিয়ে তাদের গাড়ি স্রোতে ভেসে যায়।

শুক্রবার রাতে বেতুলের সারনি থানার বাসিন্দা কবীর সিন্দুর (২৬) এবং হংসরাজ সিন্দুর (২৭) একটি ওয়াগনআর গাড়িতে করে নারায়ণপুর গ্রামে যাচ্ছিলেন। রাস্তাঘাট চেনা না থাকায় তারা গুগল ম্যাপের নির্দেশ অনুসরণ করছিলেন। ম্যাপের দেখানো পথ ধরে তারা বাটকি ডোহ এলাকার একটি নদীর কাছে পৌঁছান। তখন মুষলধারে বৃষ্টির কারণে নদীর জলস্তর অনেক বেড়ে গিয়েছিল এবং ছোট সেতুর উপর দিয়েও প্রবল স্রোত বইছিল।

বিপদের কথা বুঝতে না পেরে তারা গাড়ি নিয়ে সেই সেতু পার হওয়ার চেষ্টা করেন।

গাড়িটি সেতুর মাঝামাঝি পৌঁছাতেই ঘটে যায় দুর্ঘটনা। প্রবল স্রোতে ওয়াগনআর গাড়িটি মুহূর্তের মধ্যে ভেসে যায়। নদীর মাঝখানে আটকে পড়েন কবীর এবং হংসরাজ। চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে চোপনা থানার পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। স্থানীয় গ্রামবাসী এবং দক্ষ ডুবুরিরাও উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কমলা জোশী জানিয়েছেন, দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে কবীর ও হংসরাজ প্রাণে বেঁচে গেছেন। গাড়ির ভেতরে আটকে পড়লেও সময় মতো তাদের বাইরে বের করা সম্ভব হয়।

এই উদ্ধার অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন চোপনা থানার পুলিশ এবং ইন্সপেক্টর নরেন্দ্র সিং পারিহার। এছাড়া, স্থানীয় ডুবুরি দিলীপ ঘরামী, শংকর শিকদার, চিত্তরঞ্জন শিকদার, সত্তোজিৎ ঘরামী এবং অভিষেক শিকদার তাদের সাহসিকতা দেখান।

প্রবল স্রোতের কারণে গাড়িটি এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, স্রোত কমলে গাড়িটি টেনে তোলার চেষ্টা করা হবে।

স্থানীয়রা জানান, কয়েক দিন আগেও একই জায়গায় একটি ট্র্যাক্টর-ট্রলি উল্টে গিয়েছিল। সেই ঘটনায় পাঁচজনের মধ্যে তিনজনকে উদ্ধার করেছিল চোপনা থানার পুলিশ।