“খেলতে খেলতে পড়ুয়ারা কষবে অঙ্ক!”-শিক্ষার্থীদের ভয় কাটাতে সরকারি স্কুলে বড় উদ্যোগ

অঙ্ক মানেই অনেক পড়ুয়ার কাছে ভয়ের কারণ। সংখ্যার জটিল সমীকরণ আর জ্যামিতির চিত্র দেখলে অনেকেরই হাত-পা কাঁপে। এই সমস্যা দূর করতে এক দারুণ উদ্যোগ নিয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটার বেণীমাধব উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়। তারা তৈরি করেছে একটি অত্যাধুনিক ‘ম্যাথেমেটিকস ল্যাব’ বা গণিত ল্যাবরেটরি। রাজ্যের মধ্যে কোনো সরকারি স্কুলে এই ধরনের ল্যাব এটাই প্রথম বলে জানিয়েছেন ওয়েস্ট বেঙ্গল এডুকেশন সার্ভিসের ডেপুটি সেক্রেটারি পার্থ কর্মকার।

এই নতুন ল্যাবে পড়ুয়ারা শুধু বই বা খাতা থেকে অঙ্ক শিখবে না, বরং হাতে-কলমে নানা মডেল ও সরঞ্জাম ব্যবহার করে তা বুঝতে পারবে। পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এখানে খেলতে খেলতে গণিত, বীজগণিত এবং জ্যামিতি শিখতে পারবে। এর ফলে তাদের মনের মধ্যে গেঁথে থাকা অঙ্কের ভয় কেটে যাবে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মোহনা মিত্র বলেন, “আমি দেখেছি, অনেক পড়ুয়া অঙ্কের খাতা খুলতেই ভয় পায়। এই ল্যাব তাদের সেই ভয় কাটাতে সাহায্য করবে। এখন তারা হাতে-কলমে শিখবে, তাই অঙ্ককে আর কঠিন মনে হবে না।”

এই ল্যাব তৈরি করা সহজ ছিল না। টাকার অভাবে এই পরিকল্পনা শুধু কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক এবং প্রধান শিক্ষিকার বাবা মনতোষকুমার মিত্রের আর্থিক অনুদানে এটি বাস্তবে রূপ পেয়েছে। তিনি বলেন, “অঙ্ককে ভয় না পেয়ে ভালোবাসতে শেখা দরকার। অঙ্ক শুধু পড়াশোনা নয়, বরং যুক্তি আর আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর উপায়।”

এই অভিনব ল্যাবের উদ্বোধনে আশপাশের অনেক স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারাও উপস্থিত ছিলেন। তারা এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। অনেকেই বলেছেন যে তারাও তাদের স্কুলে এমন ল্যাব তৈরির কথা ভাবছেন।

ল্যাব তৈরি হওয়ায় শিক্ষার্থীরাও খুবই খুশি। তাদের মতে, এই ল্যাব তাদের উচ্চশিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়াবে এবং বিজ্ঞানভিত্তিক পড়াশোনায় এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে। তারা জানিয়েছে, এখন থেকে আর অঙ্কের পরীক্ষা তাদের কাছে ভয়ের কারণ হবে না, বরং মজার এক অভিজ্ঞতা হবে। এই ল্যাবকে ‘গণিত শিক্ষার এক নতুন দিগন্ত’ বলে অভিহিত করেছেন ওয়েস্ট বেঙ্গল এডুকেশন সার্ভিসের ডেপুটি সেক্রেটারি পার্থ কর্মকার।