অমিত শাহের গ্রেফতারি মনে করাল কংগ্রেস, পাল্টা জবাব দিতে ছাড়লেন না স্বরাষ্ট্রপমন্ত্রী

সংসদে সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে শাসক এবং বিরোধী দলের মধ্যে তুমুল বিতর্ক দেখা দিয়েছে। এই বিতর্ক এতটাই ব্যক্তিগত পর্যায়ে নেমে এসেছে যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং কংগ্রেস সাংসদ কেসি বেণুগোপালের মধ্যে নৈতিকতা নিয়ে তীব্র বাদানুবাদ হয়েছে। বেণুগোপাল অমিত শাহকে তাঁর জেলবন্দি থাকার দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন, আর অমিত শাহও তার কড়া জবাব দিয়েছেন।
কী নিয়ে বিতর্ক?
বিতর্কের মূলে রয়েছে ১৩০তম সংবিধান সংশোধনী বিল, যা ২০ আগস্ট লোকসভায় পেশ করেন অমিত শাহ। যদিও বিলটি এখনো পাশ হয়নি, এটি একটি যুগ্ম সংসদীয় কমিটির কাছে পর্যালোচনা করার জন্য পাঠানো হয়েছে।
এই বিলের প্রস্তাব অনুযায়ী, যদি দেশের কোনো প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা কোনো রাজ্যের মন্ত্রীকে গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় (যেখানে ৫ বছর বা তার বেশি কারাদণ্ড হতে পারে), এবং যদি টানা ৩০ দিন পুলিশি হেফাজতে থাকেন, তাহলে ৩১তম দিনে তাঁকে পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে অথবা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হবে। তবে মুক্তি পাওয়ার পর তাঁরা চাইলে আবার পদে ফিরতে পারবেন।
বেণুগোপালের আক্রমণ ও শাহের জবাব
এই বিলের বিরোধিতা করে কেসি বেণুগোপাল বলেন, এই বিল দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো নষ্ট করছে। তিনি অমিত শাহকে প্রশ্ন করেন, “যখন উনি গুজরাটের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন, তিনি গ্রেফতার হয়েছিলেন। সেই সময় কি নৈতিকতা ধরে রেখেছিলেন?” এই কথার মাধ্যমে তিনি ২০১০ সালের সোহরাবুদ্দিন শেখ ভুয়ো এনকাউন্টার মামলার কথা তুলে ধরেন।
এর জবাবে অমিত শাহ সঙ্গে সঙ্গে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছিল। তবুও আমি নৈতিকতার খাতিরে শুধুমাত্র পদ থেকে ইস্তফাই দিইনি, যতদিন পর্যন্ত আমার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ খারিজ হয়েছে, ততদিন কোনো সাংবিধানিক পদ গ্রহণ করিনি।” তিনি আরও বলেন, “এতটাও নির্লজ্জ হতে পারি না যে আমাদের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সাংবিধানিক পদে বসে থাকব। আমার গ্রেফতারির আগেই আমি ইস্তফা দিয়েছিলাম।”
প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে সিবিআই অমিত শাহকে গ্রেফতার করেছিল, তখন তিনি গুজরাটের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। গ্রেফতারের পর তিনি পদত্যাগ করেন এবং তিন মাস জেলে ছিলেন। পরে ২০১৪ সালে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে বিশেষ আদালত তাঁকে সমস্ত অভিযোগ থেকে মুক্তি দেয়।