“চিনকে লাগাম লাগাতে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক জরুরি”-ট্রাম্পকে সতর্ক করলেন প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হেলি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক নিয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, যদি চিনকে মোকাবিলা করতে হয়, তাহলে দ্রুত ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করা দরকার। রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা এবং শুল্ক সংক্রান্ত বিরোধের কারণে যেন দুই দেশের সম্পর্কে কোনো ফাটল না ধরে, সেই বিষয়েও তিনি জোর দিয়েছেন।

কেন ভারতকে কাছে টানতে চাইছে আমেরিকা?
নিকি হেলি তাঁর লেখায় বলেছেন, চিনের ক্রমবর্ধমান শক্তিকে রুখতে হলে ভারতের মতো বন্ধুকে আমেরিকার প্রয়োজন। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে চিন তাদের প্রভাব বাড়াতে চাইছে, তাই ভারতকে সঙ্গে নিয়েই এই প্রভাব কমানো সম্ভব।

রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে বিতর্ক
সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া থেকে ভারত তেল কেনা চালিয়ে যাওয়ায় আমেরিকা অসন্তুষ্ট। এর প্রতিবাদে ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫% শুল্ক চাপিয়েছিল। এই পদক্ষেপের কারণে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। যদিও নিকি হেলি এই শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন, কারণ তার মতে, ভারতের এই তেল কেনা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধকে সাহায্য করছে। তবে একই সাথে তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে, ভারতকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। এমনটা করলে চিনের বিরুদ্ধে ভারতের ২৫ বছরের অগ্রগতি নষ্ট হয়ে যাবে, যা আমেরিকার জন্য একটি বড় কৌশলগত ভুল হবে।

ভারতের গুরুত্ব কী?
নিকি হেলি যুক্তি দিয়েছেন যে, আমেরিকার অর্থনৈতিক এবং নিরাপত্তা লক্ষ্যের জন্য ভারত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যখন আমেরিকা তাদের সরবরাহ চেইন চিন থেকে সরিয়ে নিতে চাইছে, তখন ভারত টেক্সটাইল, ফোন এবং সোলার প্যানেলের মতো পণ্য উৎপাদনের ক্ষমতা বাড়াচ্ছে, যা চিনের বিকল্প হতে পারে। এছাড়া, আমেরিকা ও ইজরায়েলের মতো দেশের সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক ক্রমশ বাড়ছে, যা মুক্ত বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য একটি মূল্যবান সম্পদ।

হেলি মনে করেন, ভারতের শক্তি বৃদ্ধি পেলে চিনের ক্ষমতা আপনা থেকেই কমবে। তাই তিনি ট্রাম্প এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে সরাসরি আলোচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সুযোগ হাতছাড়া হলে চিন এই বিরোধকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করবে।