প্রেম অপরাধ নয়, মুসলিম আইনে ১৫-য় বিয়ে বৈধ, মত জানালো সুপ্রিমকোর্ট

প্রেম করে পালানো নাবালক-নাবালিকাদের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা রুজু করার প্রবণতা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার একটি মামলার শুনানিতে বিচারপতি বি ভি নাগরত্ন ও বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চ স্পষ্টভাবে বলেছে, “ভালোবাসা কি কোনো ফৌজদারি অপরাধ যে আপনারা তার বিরোধিতা করছেন?” এই মন্তব্য করে সুপ্রিম কোর্ট জাতীয় শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন (NCPCR)-কে তিরস্কার করেছে।
উত্তরপ্রদেশের এক দম্পতি ও তাদের শিশু সন্তানের জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে চ্যালেঞ্জ করে এনসিপিসিআর যে আবেদন করেছিল, সেই মামলার শুনানিতেই আদালত এই মন্তব্য করে। সুপ্রিম কোর্ট বিস্ময় প্রকাশ করে বলে যে, শিশুদের নিরাপত্তা দেওয়া যাদের কাজ, তারাই মা ও শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। আদালত এনসিপিসিআর-এর আবেদন খারিজ করে দেয়।
এনসিপিসিআর-এর পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয় যে, মেয়েটির বিয়ের সময় বয়স ১৬ বছর ছিল, যা আইনত অপ্রাপ্তবয়স্ক। এটি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনের লঙ্ঘন। কিন্তু আদালত এই যুক্তি মানতে রাজি হয়নি। বিচারপতি নাগরত্ন বলেন, পকসো আইন মূলত যৌন অপরাধের জন্য তৈরি, কিন্তু অনেক রোম্যান্টিক সম্পর্ককে এর আওতায় আনা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই ফৌজদারি অপরাধ নয়। তিনি আরও বলেন, প্রেমের সম্পর্কের জন্য নাবালকদের আঘাত করা যাবে না এবং তাদের পালিয়ে যেতে বাধ্য করা যাবে না। তিনি বলেন, এর ফলে ‘অনার কিলিং’-এর মতো ঘটনাও ঘটছে, যা সমাজের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
তিন বছর আগের একটি মামলার প্রেক্ষিতে এই আলোচনা শুরু হয়। যেখানে এলাহাবাদ হাইকোর্ট মুসলিম পার্সোনাল ল অনুযায়ী এক দম্পতিকে সুরক্ষা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। হাইকোর্ট জানিয়েছিল, ১৫ বছর বয়সের পর মুসলিম মেয়েরা নিজেদের পছন্দে বিয়ে করতে পারে। কিন্তু এনসিপিসিআর সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিল।
এদিনের রায়ের পর শিশু অধিকার কর্মী এবং আইনজীবীরা বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। কিছু এনজিও মনে করছে, এই ধরনের রায় বাল্যবিবাহকে উৎসাহিত করবে। তবে শিশু অধিকার কর্মী কোমাল গনোত্রা মনে করেন, সম্মতির ভিত্তিতে তৈরি সম্পর্ককে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়। তিনি বলেন, হাজার হাজার কিশোরকে ভুলভাবে পকসো আইনে জেলে পাঠানো হয়েছে।
সম্প্রতি, সুপ্রিম কোর্টে সম্মতির বয়স ১৬ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, কিন্তু কেন্দ্র তাতে আপত্তি জানিয়েছে। বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ও এই বিষয়ে কেন্দ্রের কাছে পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছিলেন। সমাজকর্মীরা মনে করছেন, বাল্যবিবাহ এবং এই ধরনের ঘটনা রোধ করতে স্কুলগুলিতে যৌনশিক্ষা এবং স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি।