নোরা ফাতেহির মতো ফিগার চাই, স্ত্রীকে রোজ ৩ ঘণ্টা ব্যায়াম করাতেন স্বামী, না করলেই …?

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নোরা ফাতেহির মতো ফিগার পাওয়ার জন্য স্বামীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন গাজিয়াবাদের এক সদ্য বিবাহিত মহিলা। স্বামী, যিনি একজন সরকারি শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক, তিনি প্রতিদিন স্ত্রীকে তিন ঘণ্টা করে ব্যায়াম করতে বাধ্য করতেন। অভিযোগ করা হয়েছে, ব্যায়ামে সামান্য ত্রুটি হলে বা শারীরিক অসুস্থতার কারণে কম সময় ব্যায়াম করলে তাকে খেতেও দেওয়া হতো না। এই গুরুতর অভিযোগে ওই মহিলা গাজিয়াবাদের মহিলা থানায় স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।

ওই মহিলার অভিযোগ অনুসারে, তার স্বামী প্রায়ই বলতেন যে তিনি নোরা ফাতেহির মতো সুন্দর এবং আকর্ষণীয় স্ত্রী পেতে পারতেন, কিন্তু তা না হওয়ায় তার জীবন নষ্ট হয়ে গেছে। শুধু মুখের কথা নয়, শারীরিক অনুশীলনের নামে তিনি স্ত্রীকে রীতিমতো নির্যাতন করতেন।

২০২৫ সালের মার্চ মাসে খুব ধুমধাম করে তাদের বিয়ে হয়েছিল, যেখানে ৭৬ লক্ষ টাকার বেশি খরচ হয়েছিল এবং যৌতুক হিসেবে একটি মাহিন্দ্রা স্করপিও গাড়ি, নগদ অর্থ এবং প্রচুর গয়না দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের পরপরই স্বামী এবং তার পরিবারের সদস্যরা আরও যৌতুক দাবি করতে শুরু করেন। অভিযোগকারী জানিয়েছেন, যৌতুক না দিলে তাকে কটূক্তি করা হতো এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে যে, স্বামী প্রায়শই আপত্তিকর ছবি এবং ভিডিও দেখতেন। এর প্রতিবাদ করলে স্ত্রীকে মারধর করা হতো এবং বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো। শুধু স্বামী নয়, তার শ্বশুর, শাশুড়ি এবং ননদের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ করেছেন ওই মহিলা। তিনি বলেছেন, শ্বশুরবাড়ির লোকেরা তাকে তার বাবা-মায়ের বাড়ি থেকে আরও অর্থ এবং দামি জিনিসপত্র আনার জন্য চাপ দিত।

সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে যখন তিনি গর্ভবতী হন। সেই সময়েও তাকে নির্যাতন করা হতো। অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির লোকেরা তাকে এমন কিছু খাবার খাইয়েছিল, যার ফলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। জুলাই মাসে অতিরিক্ত রক্তপাত এবং অসহ্য ব্যথার কারণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়, যেখানে ডাক্তাররা নিশ্চিত করেন যে নির্যাতন এবং ভুল খাদ্যাভ্যাসের কারণেই তার গর্ভপাত হয়েছে।

এই ঘটনার পর মহিলা বাধ্য হয়ে তার বাপের বাড়িতে ফিরে যান। এরপরও তার স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা তাকে ভিডিও কলে হুমকি দেন এবং বিবাহবিচ্ছেদের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। ২৬শে জুলাই যখন তিনি স্বামীর বাড়িতে ফিরে যান, তখন তাকে প্রবেশ করতেও দেওয়া হয়নি।

মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুতর এবং সমস্ত প্রমাণ, সাক্ষী এবং মেডিকেল রিপোর্টের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।