৬ মাসে বাতিল প্রায় ৬ হাজার ফ্লাইট, সংসদে হিসেব পেশ করলো কেন্দ্র সরকার

চলতি বছরে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিমান সংস্থার যান্ত্রিক ত্রুটি এবং নানা কারণে ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা বেড়েছে। সোমবার অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক (MoCA) রাজ্যসভায় জানিয়েছে যে, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত ভারতের প্রথম সারির বিমান সংস্থাগুলি মোট ৫ হাজার ৭০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করেছে।

মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই বিপুল সংখ্যক বিমান বাতিলের পেছনে ভারত-পাকিস্তান এবং ইরান-ইজরায়েলের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনেকটাই দায়ী। পাকিস্তানের আকাশসীমা ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলির জন্য বন্ধ থাকায় পশ্চিমের দেশগুলোতে যাওয়ার জন্য বিমানগুলোকে অনেকটা ঘুরপথে যেতে হচ্ছে। এতে যেমন বেশি সময় লাগছে, তেমনই জ্বালানি খরচও বাড়ছে। এর ফলে অনেক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এ ছাড়াও, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর কারণে উত্তর ও পশ্চিম ভারতের অনেক বিমানবন্দরে বেসামরিক বিমান চলাচল বন্ধ ছিল, সেই সময়েও অনেক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছিল।

অসামরিক বিমান পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী মুরলীধর মোহলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে সবচেয়ে বেশি ফ্লাইট বাতিল করেছে দেশের বৃহত্তম বিমান সংস্থা ইন্ডিগো (IndiGo)। তারা ৩ হাজার ২৭৪টি বিমান বাতিল করেছে, যা মোট বাতিলের প্রায় ৫৭ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া (Air India), যারা ১ হাজার ৪৬৮টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। এরপরের স্থানে রয়েছে স্পাইসজেট (SpiceJet), যারা ৪০১টি বিমান বাতিল করেছে। আকাসা এয়ার (Akasa Air) এবং অ্যালায়েন্স এয়ারের (Alliance Air) বাতিল হওয়া বিমানের সংখ্যা যথাক্রমে ৬৪ এবং ৪৯৯টি।

তবে প্রতিমন্ত্রী এও জানিয়েছেন যে, ফ্লাইট বাতিল হওয়ার কারণে বিমান সংস্থাগুলিকে অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হয়েছে। এর মধ্যে একমাত্র ভালো খবর হলো, এই সময়ে দেশীয় বিমান সংস্থাগুলোতে যাত্রীর সংখ্যা গত বছরের তুলনায় ৭.৩৪ শতাংশ বেড়েছে।