জামুড়িয়ায় ভয়াবহ ঘটনা! ভাড়া বাড়ির খাটের তলা থেকে উদ্ধার গৃহবধূর নিধর দেহ, ছেলেকে নিয়ে পলাতক স্বামী

পশ্চিম বর্ধমান জেলার জামুড়িয়া থানার হিজলগড়া গ্রামে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাতে একটি তালাবন্ধ ঘরের খাটের তলা থেকে ২২ বছর বয়সী এক গৃহবধূর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃতার নাম রেণুকা পাত্র। এই ঘটনায় তার স্বামী বৈদ্যনাথ পাত্রের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে খুন করে এক বছরের ছেলেকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৈদ্যনাথ পাত্র তার স্ত্রী রেণুকাকে নিয়ে জামুড়িয়ার হিজলগড়া গ্রামে একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। তাদের এক বছর বয়সী একটি সন্তানও আছে। শুক্রবার বৈদ্যনাথ বাড়িটি তালাবদ্ধ করে তার সন্তানকে নিয়ে বেরিয়ে যান। বাড়ি ছাড়ার আগে তিনি বাড়ির মালিক তন্ময় মণ্ডলকে পুরো মাসের ভাড়া মিটিয়ে দেন। বৈদ্যনাথ জানান, তার স্ত্রী আগেই রানিগঞ্জ চলে গেছেন এবং তিনি সেখানে যাচ্ছেন।
বাড়ির মালিকের কথায়, “প্রত্যেক মাসের ১৫ তারিখে বৈদ্যনাথ বাড়ি ভাড়া দিতেন। গতকালও তিনি সাইকেলে করে এসে ভাড়া মিটিয়ে দিয়ে যান। তার সঙ্গে তার শিশু পুত্রও ছিল। তিনি দ্রুত চলে যাচ্ছিলেন, যা দেখে আমার সন্দেহ হয়।” এরপর তন্ময় মণ্ডল বৈদ্যনাথকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন ধরেননি। সন্দেহ আরও বাড়লে বাড়ির মালিক জামুড়িয়া থানার কেঁদা ফাঁড়িতে অভিযোগ দায়ের করেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। তারা খাটের নিচে রেণুকার মৃতদেহ দেখতে পায়। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, পারিবারিক অশান্তির জেরে বৈদ্যনাথ তার স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে খুন করে পালিয়েছেন।
প্রেক্ষাপট
বৈদ্যনাথ পাত্রের বাড়ি জামুড়িয়া থানার চুরুলিয়া ফাঁড়ি এলাকায়। তিনি একটি বেসরকারি কারখানায় কাজ করতেন। জানা গেছে, তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘি থানা এলাকার রেণুকা দাসকে প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন। বিয়ের পর তারা জামুড়িয়ার ওই ভাড়া বাড়িতে থাকতে শুরু করেন।
বাড়ির মালিক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, বৈদ্যনাথ ও তার স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-অশান্তি হতো। যদিও তারা বিস্তারিত কিছু জানতেন না।
পুলিশি তৎপরতা
জামুড়িয়া থানার পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য আসানসোল জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছে। পুলিশের ধারণা, পারিবারিক কলহের কারণেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। পলাতক বৈদ্যনাথ পাত্রের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।