অবশেষে স্বস্তি! কমছে সবজির দাম, মধ্যবিত্তের মুখে হাসি

সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সবচেয়ে বড় চিন্তার অন্যতম কারণ হল বাজার-খরচ, বিশেষ করে যখন সবজির দাম হু-হু করে বাড়তে থাকে। গত কয়েক মাস ধরে শহর এবং গ্রামের সাধারণ ক্রেতাদের এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই যেতে হয়েছে। তবে সম্প্রতি বাজারে সবজির দাম কিছুটা কমায় ক্রেতারা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন।

কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন বাজারে গত সপ্তাহ থেকেই সবজির দামে পতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পাইকারি বাজারে সরবরাহ বাড়ায় খুচরা বাজারেও তার প্রভাব পড়েছে। যে টমেটোর দাম কিছুদিন আগে প্রতি কেজি ১০০ টাকায় পৌঁছে গিয়েছিল, তা এখন অনেকটাই কমে ৪০-৫০ টাকায় নেমে এসেছে। ফুলকপি, পটল, ঢ্যাঁড়স, কুমড়ো কিংবা লাউয়ের মতো সবজির দামও প্রায় ২০-৩০ শতাংশ কমেছে।

আলু ও পেঁয়াজের বাজারেও বড় পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে আলুর দাম মধ্যবিত্তদের জন্য মাথাব্যথার কারণ ছিল, কিন্তু নতুন ফসল বাজারে আসায় দাম স্থিতিশীল হয়েছে। পেঁয়াজের দামেও কিছুটা স্বস্তি মিলেছে, যদিও এখনও তা পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়।

দক্ষিণ কলকাতার এক গৃহিণী জানান, “বাচ্চাদের পড়াশোনার খরচ, বিদ্যুতের বিল, বাড়ি ভাড়া—সব মিলিয়ে সংসার চালানো খুবই কঠিন। তার ওপর সবজির দাম বাড়লে তো আর উপায় থাকে না। এখন অন্তত কিছুটা স্বস্তি মিলছে।”

ব্যবসায়ীরাও মনে করছেন, বৃষ্টিপাত এবং পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ায় সরবরাহ বেড়েছে, যার কারণে দাম কমেছে। তবে বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। বর্ষার শেষে কিছু সবজির উৎপাদন কমলে আবার দাম বাড়তে পারে। এছাড়াও পেট্রোল-ডিজেলের দামের ওঠানামাও সবজির বাজারে প্রভাব ফেলে।

এদিকে কৃষকরা বলছেন, উৎপাদন ভালো হলেও পাইকারি দাম কমে যাওয়ায় তাঁদের লাভ তেমন হচ্ছে না। সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বাড়লেও বাজারে দাম কম থাকায় তাঁরা সঠিক মুনাফা পাচ্ছেন না।