প্রয়াত ঝাড়খণ্ডের শিক্ষামন্ত্রী ‘রামদাস সোরেন’, শোকের ছায়া রাজনৈতিক মহলে

ঝাড়খণ্ডের শিক্ষামন্ত্রী রামদাস সোরেন আর নেই। ৬২ বছর বয়সে শুক্রবার গভীর রাতে দিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর জীবনাবসান ঘটে। ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার (জেএমএম) জাতীয় মুখপাত্র কুণাল সারেঙ্গি এই খবর নিশ্চিত করেছেন। শেষকৃত্যের জন্য শনিবার তাঁর দেহ দিল্লি থেকে রাঁচিতে নিয়ে আসা হয়।

গত ২ আগস্ট নিজের বাড়ির শৌচাগারে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছিলেন রামদাস সোরেন। প্রথমে জামশেদপুরে চিকিৎসার পর তাঁকে বিমানে করে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে চিকিৎসা চলছিল, তবে বিগত কয়েকদিনে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

১৯৬৩ সালের ১ জানুয়ারি পূর্ব সিংভূমের ঘোরাবন্ধ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন রামদাস সোরেন। গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধান হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে তিনি একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ঘাটশিলা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তিনি তৃতীয়বারের মতো জয়লাভ করেন, যেখানে তিনি বিজেপি প্রার্থী ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চম্পাই সোরেনের ছেলে বাবুলাল সোরেনকে পরাজিত করেছিলেন।

তাঁর মৃত্যুতে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি এক্স হ্যান্ডেলে রামদাস সোরেনকে ‘দাদা’ সম্বোধন করে লেখেন, “এভাবে আমাদের ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত হল না রামদাসদা। শেষ বিদায় দাদা…।” এছাড়াও রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. ইরফান আনসারি এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চম্পাই সোরেনও শোক প্রকাশ করেছেন।

রামদাস সোরেনের ব্যক্তিগত সচিব অজয় সিনহা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, শনিবার সকালে রাঁচির বিরসা মুণ্ডা বিমানবন্দর থেকে তাঁর দেহ ঝাড়খণ্ড বিধানসভায় নিয়ে যাওয়া হবে, যেখানে বিধায়ক ও অন্যান্যরা শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন। এরপর তাঁর দেহ নির্বাচনী এলাকা ঘাটশিলায় নিয়ে যাওয়া হবে।