পুরীর হোটেলে বাঁকুড়ার তরুণী ও প্রেমিকের রহস্যজনক মৃত্যু

পুরীর একটি হোটেল থেকে বাঁকুড়ার এক বিবাহিত তরুণী এবং তার প্রেমিকের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। বৃহস্পতিবার পুরী পুলিশ মিতালি (২৯) নামে ওই তরুণী এবং কুমারীশ ঘোষ নামে তার প্রেমিকের মৃতদেহ উদ্ধার করে। স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, মিতালি পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন।
ঘটনার বিবরণ:
বাঁকুড়ার সোনামুখীর বাসিন্দা মিতালির বিয়ে হয়েছিল পূর্ব বর্ধমানের রায়না থানার হরিহরপুরের বাসিন্দা প্রশান্ত ঘোষের সঙ্গে। তাদের একটি কন্যাসন্তানও আছে। অভিযোগ, প্রায় এক সপ্তাহ আগে মিতালি বাবার বাড়ি যাচ্ছেন বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান এবং তারপর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন। বৃহস্পতিবার পুরীর এক হোটেলে তার এবং কুমারীশ ঘোষের মৃতদেহ পাওয়া যায়। মিতালির স্বামী প্রশান্ত জানান, দু’বছর আগে মিতালি পাশের গ্রামের কুমারীশ ঘোষের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। তিনি বলেন, বেশ কিছুদিন আগে তিনি হোয়াটসঅ্যাপে কুমারীশ ও মিতালির একটি ছবি দেখে ফেলেন।
পরিবারের অভিযোগ:
মিতালির স্বামী প্রশান্ত ঘোষ ও তার ভাই বৃন্দাবন ঘোষ পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ এনেছেন। প্রশান্ত বলেন, ৭ দিন আগে মিতালি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর তার মোবাইল বন্ধ হয়ে যায়। তিনি শ্বশুরবাড়িতে যোগাযোগ করলে জানতে পারেন মিতালি সেখানে যাননি। এরপর নিখোঁজ অভিযোগ দায়ের করা হয়। বৃন্দাবন ঘোষ জানান, তারা জানতে পেরেছিলেন যে তার বোন পুরীর একটি হোটেলে আছেন এবং পুলিশকে সেই তথ্য দেওয়া হয়েছিল। তার অভিযোগ, পুলিশ যদি দ্রুত ব্যবস্থা নিত, তাহলে তার বোনকে জীবিত উদ্ধার করা যেত।
পুলিশের তদন্ত:
বৃহস্পতিবার উড়িষ্যা পুলিশ প্রশান্তর মোবাইলে ফোন করে মিতালির মৃতদেহ উদ্ধারের খবর জানায়। এরপর দুজনেরই দেহ উদ্ধার করা হয় এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশ এই ঘটনার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছে।