স্বাধীনতা দিবসে রাজভবনে চা চক্র, এক মঞ্চে মমতা, বিমান বসু ও প্রদীপ ভট্টাচার্য

৭৯তম স্বাধীনতা দিবসের বিকেলে রাজভবনে আয়োজিত প্রথাগত চা চক্রে রাজ্যের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের মিলন ঘটল। রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে এক ছাদের নিচে একত্রিত হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু এবং কংগ্রেসের প্রদীপ ভট্টাচার্য।
মুখ্যমন্ত্রীর আগমন:
শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে সঙ্গে নিয়ে রাজভবনে পৌঁছান। সাদা শাড়ি, নীল পাড় এবং চপ্পলে তিনি তার চিরাচরিত পোশাকে ছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন বিখ্যাত সংগীতশিল্পী উষা উত্থুপও।
সৌজন্য বিনিময়:
রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস এবং তার স্ত্রী করজোড়ে অতিথিদের স্বাগত জানান। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রাজ্যপালের উষ্ণ অভ্যর্থনা বিনিময় হয়, যা রাজনৈতিক মহলে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। এরপরই বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু এবং কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য রাজভবনে আসেন। মুখ্যমন্ত্রী তাদের সঙ্গে স্বাভাবিক সৌজন্যমূলক কথা বলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্বাধীনতা দিবসের মতো জাতীয় উৎসবে এই ধরনের সৌহার্দ্যপূর্ণ মিলন রাজ্যের রাজনীতিতে এক ধরনের গণতান্ত্রিক বার্তা বহন করে।
মিলনক্ষেত্র:
রাজভবনের চা চক্রে অতিথিদের জন্য দার্জিলিং চা, বিভিন্ন স্ন্যাক্স, এবং রাজভবনের নিজস্ব কেক ও মিষ্টান্ন পরিবেশন করা হয়। দেশাত্মবোধক গানও পরিবেশন করা হয়। রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস তার বক্তব্যে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন এবং বলেন, “এই দিনটি শুধু উদযাপনের নয়, দায়িত্ব পালনেরও স্মারক।”
এই আয়োজনে রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষকর্তা এবং বিচারপতিরাও উপস্থিত ছিলেন। অনেকে মনে করছেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেও এমন সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ রাজনীতিতে ভারসাম্য আনতে পারে। চা চক্র শেষে মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, “স্বাধীনতা দিবস আমাদের সবার। রাজনৈতিক ভেদাভেদ এখানে জায়গা পায় না। আজকের দিনটা ঐক্যের দিন।” এভাবেই রাজভবনের চা চক্র রাজনীতি, সংস্কৃতি ও সৌহার্দ্যের এক মিলনক্ষেত্রে পরিণত হলো।