পড়াশোনা বন্ধ! বিবাহে জোর ও মারধর, অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে যা করল মেয়ে…, জানলে অবাক হবেন

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে পাশ করার পরেও ১৮ বছর বয়সী এক তরুণী তার বাবা-মায়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কলেজে পড়তে চাইছে। এই প্রতিবাদে তাকে মারধরের শিকার হতে হয়েছে। অবশেষে সে প্রশাসনের সাহায্য চাইতে বাড়ি ছেড়েছে। কন্যাশ্রী দিবস এবং স্বাধীনতা দিবসের ঠিক পর পরই এই ঘটনা সমাজে নারী স্বাধীনতার নতুন এক দিক উন্মোচন করেছে।

পড়াশোনার জন্য তীব্র লড়াই
কুলতলি ব্লকের গোপালগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা এই তরুণী কোনো গৃহশিক্ষক ছাড়াই নিজের চেষ্টায় উচ্চ মাধ্যমিকে ৬০ শতাংশের বেশি নম্বর পেয়েছে। তার প্রবল ইচ্ছা, কলেজে ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাবে এবং নিজের পায়ে দাঁড়াবে। কিন্তু বাবা-মা তার জন্য পাত্র ঠিক করে বিয়ের দিনক্ষণ প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছেন। প্রতিবাদ জানালে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়।

মেয়েটি দমে যায়নি। স্কুলে শেখা তথ্য অনুযায়ী সে এলাকার একজন আশা কর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করে বাড়ি ছেড়ে চলে আসে।

অন্বেষা ক্লিনিকে আশ্রয় ও প্রশাসনের কাছে আবেদন
আশা কর্মী তাকে কুলতলি গ্রামীণ হাসপাতালের ‘অন্বেষা ক্লিনিকে’ নিয়ে আসেন। সেখানে কাউন্সেলর সুপর্ণা কণ্ঠের কাছে মেয়েটি কেঁদে কেঁদে তার দুর্দশার কথা জানায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেয়েটির বাবা একজন সিভিক ভলান্টিয়ার, তার পরেও মেয়েকে বিয়ে দিতে চাপ ও অত্যাচার চালাচ্ছেন।

কাউন্সেলর সুপর্ণা বলেন, “মেয়েটি খুব মেধাবী। সে কন্যাশ্রীর টাকা দিয়ে পড়তে চায়, কিন্তু বাড়ির লোক তাকে জোর করে বিয়ে দিতে চাইছে। আমরা প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি। এখন বাড়ির লোককে বোঝানোর চেষ্টা করা হবে, কিন্তু আমাদের ভয় হচ্ছে, এতে মারধরের পরিমাণ আরও বেড়ে যেতে পারে।”

বারুইপুরের মহকুমাশাসক চিত্রদীপ সেন বলেন, মেয়েটির বয়স ১৮ বছরের বেশি হওয়ায় আইন অনুযায়ী তার বিয়ে আটকানো কঠিন। তবে বাড়ির লোকজনকে বোঝানোর মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে। এই ঘটনায় স্পষ্ট, স্বাধীনতার এই যুগেও অনেক মেয়ে তাদের মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য লড়াই করছে।