‘মানসিক চাপে ছিলেন’-চাকরিহারা শিক্ষক সুবল সোরেনের মৃত্যু, স্ত্রী বললেন ‘যোগ্য ছিলেন স্বামী’!

নিয়োগ সংক্রান্ত মামলার জেরে চাকরিহারা ‘যোগ্য’ শিক্ষকদের আন্দোলনের অন্যতম মুখ সুবল সোরেন (৩৫) মারা গেছেন। শুক্রবার সকালে কলকাতায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর জীবনাবসান হয়। জানা গেছে, গত ১১ই অগাস্ট তিনি ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর সহযোদ্ধা শিক্ষকরা এই ঘটনার দায় রাষ্ট্রের ওপর চাপিয়েছেন।

পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা ব্লকের বৌলাসিনি হাইস্কুলের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক ছিলেন সুবল। সাত বছর ধরে তিনি শিক্ষকতা করছিলেন। তার দাদা গোপাল সোরেন সংবাদমাধ্যমকে জানান, ৩১শে ডিসেম্বরের পর চাকরি চলে গেলে কী হবে, এই দুশ্চিন্তায় সুবল মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এবং এই চাপ থেকেই ব্রেন স্ট্রোক হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। সুবলের পরিবারে তার বৃদ্ধ বাবা, স্ত্রী এবং দুই বছরের শিশুকন্যা রয়েছে। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন সুবল। তার স্ত্রী সন্ধ্যা সোরেন বলেন, “আমার স্বামী একজন যোগ্য শিক্ষক ছিল। সে বারবার বলত, আর চাপ নিতে পারছে না। চাকরি হারানোর চাপ ও মেনে নিতে পারেনি।”

নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে সুপ্রিম কোর্ট এসএসসির ২০১৬ সালের গোটা প্যানেল বাতিল করে দিয়েছিল, যার ফলে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী রাতারাতি চাকরি হারান। এর মধ্যে যে সকল শিক্ষকের নাম ‘দাগি’ তালিকায় ছিল না, সুবল ছিলেন তাদের আন্দোলনের একজন প্রথম সারির নেতা।

চাকরিহারা শিক্ষকদের তরফে কৃষ্ণগোপাল চক্রবর্তী বলেন, “সুবল সোরেনের মৃত্যুর দায় রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর থেকে সে আমাদের আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছিল। কিন্তু শেষের দিকে সে আর মানসিক চাপ সামলাতে পারেনি, যার ফল এই মর্মান্তিক মৃত্যু।”

এই শিক্ষকের মৃত্যু প্রসঙ্গে দাঁতনের তৃণমূল বিধায়ক বিক্রমচন্দ্র প্রধান বলেন, “এটি খুবই দুঃখজনক ঘটনা। ভালো শিক্ষক হিসেবে তিনি এলাকায় পরিচিত ছিলেন। আমরা পরিবারের পাশে থাকব। তবে একটাই কথা বলব, এই ধরনের নিষ্ঠুর রায় দেওয়ার আগে আদালতের আরও ভাবা উচিত ছিল।”

উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, ‘দাগি’ হিসেবে চিহ্নিত না হওয়া শিক্ষকরা আগামী ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত চাকরিতে বহাল থাকছেন। এই সময়ের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এবং এই শিক্ষকরাও সেই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন।