বিশেষ: ২০২৫ -এ সোনার ভরি ১ লক্ষরও বেশি, ১৯৪৭ সালে কত দাম ছিল জানেন?

দেশ আজ স্বাধীনতার ৭৮ বছর উদযাপন করছে। এই দীর্ঘ সময়ে ভারত অনেক অর্থনৈতিক পরিবর্তন দেখেছে। দেশের স্বাধীনতার সময় থেকে আজ পর্যন্ত সোনা, রুপো, পেট্রোল এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দামের আকাশ-পাতাল পার্থক্য দেখলে অবাক হতে হয়।

সোনার দাম: ১৯৪৭ সালে প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দাম ছিল প্রায় ৮৮ টাকা, যা এখন ১ লক্ষ টাকারও বেশি। আজ, ১৫ই আগস্ট, ২০২৫-এ ২২ ক্যারেট সোনার দাম ৯২,৯০০ টাকা এবং ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১,০১,৩৫০ টাকা।

রুপোর দাম: ১৯৪৭ সালে রুপোর দাম প্রতি কেজিতে ১০৬ টাকা ছিল। আজ সেই দাম বেড়ে হয়েছে প্রতি কেজি ১,১০,০০০ টাকারও বেশি।

পেট্রোলের দাম: স্বাধীনতার সময় এক লিটার পেট্রোলের দাম ছিল মাত্র ২৫-২৭ পয়সা। বর্তমানে দিল্লিতে এক লিটার পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৯৫ টাকায় এবং কলকাতায় তা ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে।

খাদ্যদ্রব্যের দাম: ১৯৪৭ সালে প্রতি কেজি চালের দাম ছিল ১০ থেকে ১৬ পয়সা, যা এখন গড়ে ৪০ টাকা প্রতি কেজি। সে সময় একটি ডিমের দাম ছিল ২-৪ পয়সা, যা এখন ৮-১০ টাকায় বিক্রি হয়। সরষের তেলের দাম ছিল প্রতি কেজি ১৫-২০ পয়সা, আর এখন প্রতি লিটার ১৯০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলুর দাম ছিল প্রতি কেজি ৫ পয়সা, যা এখন ৩০-৪০ টাকা।

স্বাধীনতার সময়ের আয়: ১৯৪৭ সালে মানুষের মাসিক গড় আয় ছিল ২০-২৫ টাকা। সরকারি কর্মীদের বেতন ছিল ৫০-১৫০ টাকা। এই সীমিত আয়ের তুলনায় ৮৮ টাকার সোনাও অনেক দামি ছিল। আজ, মাথাপিছু বার্ষিক আয় প্রায় ২ লক্ষ টাকা।

মুদ্রাস্ফীতি এবং জিডিপি: ১৯৪৭ সালে মুদ্রাস্ফীতির কোনো সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও, এটি ১০ শতাংশের বেশি ছিল বলে অনুমান করা হয়। কারণ দেশ সদ্য স্বাধীনতা পেয়েছে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত ছিল। বর্তমানে মুদ্রাস্ফীতির হার ৩-৪ শতাংশের মধ্যে।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের বিচারেও বিশাল পরিবর্তন এসেছে। ১৯৪৭ সালে ১ মার্কিন ডলারের মূল্য ছিল ৩.৩ টাকার সমান, এবং দেশের জিডিপি ছিল প্রায় ৮০০-৯০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এখন ১ ডলারের দাম প্রায় ৮৬ টাকা এবং ভারতের জিডিপি প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন ডলার, যা দেশকে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত করেছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে তৃতীয় স্থানে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে ভারত এগিয়ে চলেছে।