মুর্শিদাবাদের ‘মিনি বৃন্দাবন’ যেন এই মন্দির! ভক্তদের মুখে ‘শ্রী কৃষ্ণ’ নাম, জন্মাষ্টমীতে আনন্দে মেতে ওঠে পুরো এলাকা

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সেজে উঠছে মুর্শিদাবাদ জেলার অন্যতম প্রাচীন গোপাল টুঙ্গী মন্দির। প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ বছরের পুরনো এই মন্দিরে শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন পালনের জন্য এখন সাজ সাজ রব। হিন্দু ক্যালেন্ডার অনুসারে, প্রতি বছর ভাদ্রপদ মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে এই উৎসব পালিত হয় এবং এই বছর তা পড়েছে আগামী শনিবার।
মুর্শিদাবাদের ‘মিনি বৃন্দাবন’
হিন্দু ধর্মানুসারে শ্রীকৃষ্ণকে ভগবান বিষ্ণুর অষ্টম অবতার হিসেবে গণ্য করা হয়। এই কারণে জন্মাষ্টমীর গুরুত্ব অপরিসীম। মথুরা ও বৃন্দাবনের মতো এই গোপাল টুঙ্গী মন্দিরেও জন্মাষ্টমী সাড়ম্বরে পালিত হয়। শুধু মুর্শিদাবাদ নয়, জেলার বাইরের বিভিন্ন গ্রাম থেকেও ভক্তরা এই দিন মন্দিরে ভিড় জমান। বর্তমানে এই মন্দিরটি পর্যটকদেরও নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে মন্দিরে বিশেষ নিয়ম ও রীতিনীতি পালন করা হয়। পুজোর দায়িত্বে থাকা সৈকত রায় জানান, এই মন্দিরে দীর্ঘদিন ধরে জন্মাষ্টমী পুজো হয়ে আসছে এবং কোনো বছরই তা বন্ধ হয়নি।
বিশেষ আয়োজন
জন্মাষ্টমীর দিন সকালে ঠাকুরকে সেবা দেওয়া হয় এবং সন্ধ্যায় হয় বিশেষ আরতি। এর পর থাকে বিশেষ অভিষেক এবং প্রসাদ বিতরণের বিশাল আয়োজন। এ বছর প্রায় ১০০০ ভক্তের জন্য প্রসাদের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। সাধারণত প্রতিদিনই এখানে নাম সংকীর্তন হয়, কিন্তু জন্মাষ্টমীর দিনে বিশেষ নাম কীর্তন, ধর্ম সভা, পালা কীর্তন এবং গীতা পাঠের আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যায় ভক্তরা পুষ্পাঞ্জলি দেন এবং এরপর প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
এই মন্দিরের ঐতিহ্য এবং পুজোর জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এই বিশেষ দিনে ভক্তরা এখানে এসে এক অন্যরকম আধ্যাত্মিক পরিবেশের স্বাদ পান।