বাংলায় ‘SIR’ নিয়ে তৃণমূলের হুঁশিয়ারি, ‘এক লাখ মানুষ নিয়ে কমিশন ঘেরাও’

দেশজুড়ে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া (SIR) নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে, এবং পশ্চিমবঙ্গে এটি এখন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের মূল হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি দিল্লিতে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, “বাংলায় একটিও নাম যদি বাদ যায়, তাহলে এক লাখ মানুষ নিয়ে নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করা হবে।”
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, জনগণ না চাইলে কমিশন এই ধরনের পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে। তিনি আরও জানিয়েছেন যে, দল এই ইস্যুতে একটি বড় ‘প্রতিরোধ আন্দোলন’ গড়ে তোলার জন্য সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, কৃষি বিল বা এনআরসি-র বিরুদ্ধে যেভাবে গণবিক্ষোভ হয়েছিল, ‘SIR’-এর ক্ষেত্রেও তৃণমূল একই কৌশল অবলম্বন করতে চাইছে।
দলীয় সূত্র অনুযায়ী, অভিষেক ইতিমধ্যেই ব্লক এবং জেলা স্তরের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে এই আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এমনকি, যদি সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার রায় তৃণমূলের পক্ষে না আসে, তাহলে তারা রিভিউ পিটিশন ফাইল করার কথাও ভাবছে।
‘SIR’ নিয়ে তৃণমূলের এই আন্দোলন নতুন নয়। একুশের মঞ্চ থেকেই এর বিরুদ্ধে গর্জন উঠেছিল। সংসদের বাদল অধিবেশনের আগেও অভিষেক এই নিয়ে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। এবার আন্দোলন আরও জোরালো হলে তৃণমূল বেশ কিছু মূল ইস্যু নিয়ে প্রচার চালাবে। যেমন:
১. ভোটার তালিকা ডিজিটালাইজড করা।
২. বর্তমান সিইও-র পাশাপাশি প্রাক্তন সিইও রাজীব কুমারের বিরুদ্ধেও এফআইআর দায়ের করে আন্দোলন।
৩. শুধুমাত্র নির্বাচনমুখী রাজ্যেই কেন ‘SIR’ কার্যকর করা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তোলা।
৪. রাজ্য সরকারের ওপর জোর করে কোনো নির্দেশ চাপানো যাবে না, এই বার্তা দেওয়া।
তৃণমূল এই ইস্যুগুলোতে বিরোধী দলগুলোর অবস্থানকেও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। এই আন্দোলন আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।