সমাজের অন্ধকারে আলো খুঁজতে গিয়ে হাতড়ে মরার গল্প ‘ধূমকেতু’, কেমন হল দেবের সিনেমা?

মানুষ যে বড় কাঁদছে, সেই চিরন্তন সত্যকে পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর নতুন ছবি ‘ধূমকেতু’-তে আরেকবার তুলে ধরেছেন। এটি শুধু একটি প্রেমের গল্প নয়, এটি সমাজের অন্ধকার থেকে আলো খুঁজে বের করার এক তীব্র ছটফটানির গল্প। ছবিটি দেখতে দেখতে মনে হয়, আজ থেকে ১০ বছর আগে লেখা এই চিত্রনাট্য আজও কত প্রাসঙ্গিক।

ছবির গল্প নিয়ে বেশি কিছু বলা কঠিন, কারণ তাতে গল্পের মোচড় ভেঙে যাবে। তবে চরিত্রের কিছু দিক তুলে ধরা যায়। ভানু চরিত্রে দেব, যার সুখী পরিবারে হঠাৎ এমন এক ঘটনা ঘটে যে সে রাতারাতি তার শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তার ছোটবেলার বন্ধু হিসেবে অভিনয় করেছেন রুদ্রনীল ঘোষ। ভানু কেন শিকড়ছাড়া হলো এবং তার জীবন কীভাবে বদলে গেল, তা নিয়েই ছবির মূল কাহিনি আবর্তিত। ভানু কি আবার তার পরিবারের কাছে ফিরে আসবে? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার মধ্য দিয়েই ছবির গল্প এগিয়ে চলে।

ছবিতে দেবের প্রেমিকা রূপার চরিত্রে অভিনয় করেছেন শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। দেব-শুভশ্রী জুটির জন্য ‘চ্যালেঞ্জ’ এবং ‘ধূমকেতু’—দুটি ছবিই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘ধূমকেতু’র গল্প এমনভাবে সাজানো হয়েছে যে, নায়ক-নায়িকা কাছাকাছি আসুন বা দূরে যান, তাতে দর্শকদের মনে এক তীব্র প্রভাব সৃষ্টি হয়। দেব-শুভশ্রীর ব্যক্তিগত জীবনের ইতিহাস এই ছবির গভীরতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তাঁদের সম্পর্ক ভেঙেছে, শুভশ্রী অন্য কাউকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন। কিন্তু তাঁদের সিলমোহরের সম্পর্কের বাইরে কী রয়ে যায়, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে ছবির রিল আর রিয়েল জীবন কোথাও কোথাও মিশে যায়। এই ১০ বছরের ব্যবধানই যেন ছবিটিকে অন্য এক মাত্রা দিয়েছে।

অভিনয়ের দিক থেকে দেবের বৃদ্ধ লুকটি নিয়ে বহু আলোচনা হয়েছে। দুই লুকেই দেব নিজের সেরাটা দিয়েছেন। তাঁর পাশে শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় ভারি মিষ্টি এবং সাবলীল অভিনয় করেছেন। তাঁদের প্রেমের গান বা বিয়ের দৃশ্য দেখতে দেখতে মনে হয়, এই বুঝি শহরে প্রেমের জন্য ছুটি ঘোষণা করে দেওয়া হবে।

তবে এই ছবিতে যিনি দর্শকদের মন জয় করেছেন, তিনি রুদ্রনীল ঘোষ। তাঁর অভিনয় জীবনের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স এটি। দেব-রুদ্রনীলের বন্ধুত্বের গল্প দেখতে দেখতে দর্শক হাসি-কান্না উভয়েরই সাক্ষী হন। ছবির বহু সংলাপ মনে গেঁথে যায়। দেবের মুখে ‘বাবা-মা’ ডাক বুকে ধাক্কা দেয় এবং সিঁদুরদানের দৃশ্যে হাসি-কান্না এক হয়ে যায়। ছবির শেষে দর্শক অনুভব করেন, গল্পটা অসমাপ্ত। শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কবিতার মতো মনে হয়, “মানুষ বড় একলা, তুমি তাহার পাশে এসে দাঁড়াও…।”

সব মিলিয়ে, ‘ধূমকেতু’ দেখার পর মনে হয়, অনেক ক্ষত পেরিয়ে দেব-শুভশ্রী এই ছবির জন্য পাশাপাশি এসে দাঁড়িয়েছেন। এই ছবির পর তাঁদের একসঙ্গে না-ফেরার রাস্তাটাই হয়তো বন্ধ হয়ে গেল।