BigNews: ৪ মাসে আরও অধঃপতনে বাংলাদেশ, ইউনূসের বিরুদ্ধে ফের পথে নামল বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা

বাংলাদেশের রাজনীতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। গত আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস যে আমূল সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা পূরণ হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এরই মধ্যে লাগাতার বিরোধী দলগুলোর চাপের মুখে তিনি আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের ঘোষণা করলে নতুন করে বিতর্ক ও ছাত্র বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।

ড. ইউনূসের নির্বাচন ঘোষণার পর পরই ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি) এর মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারি এর তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেন, “ঘোষণা করছি, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে না। কারণ আমরা নতুন সংবিধান বা কোনো ধরনের সংস্কার পাইনি।”

নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারি আরও বলেন, যদি সরকার ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজন করতে চায়, তবে নতুন সংবিধানের জন্য যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের মরদেহ সরকারকে হস্তান্তর করতে হবে। তিনি প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সংস্কারেরও দাবি জানান এবং বলেন, ডিজিএফআইকে রাখতে হলে অবশ্যই তার সংস্কার করতে হবে।

অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতা গ্রহণের পর ড. ইউনূস উন্নয়নের বিষয়ে বড় বড় দাবি করলেও বাস্তবে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। এর মধ্যেই নির্বাচনের ঘোষণা করে তিনি বিতর্ক আরও বাড়িয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার থেকে ঢাকায় বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা বিক্ষোভ শুরু করেছে। তারা ইউনূসের পদত্যাগ এবং দ্রুত সংস্কারের দাবি জানাচ্ছে।

তবে ড. ইউনূস তার অবস্থানে অনড়। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি মনে করছেন, যত দ্রুত নির্বাচন হবে, ততই দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একদিকে সংস্কারের দাবিতে ছাত্র আন্দোলন, অন্যদিকে নির্বাচনের তারিখ নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভাজন— এই দুইয়ের মধ্যে পড়ে অন্তর্বর্তী সরকার এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।